স্বস্থি ফিরছে না নগরীর চালের বাজারে

23
স্বস্থি ফিরছে না নগরীর চালের বাজারে

স্টাফ রির্পোটার : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে কাঁচাবাজরে স্বস্থি ফিরেছে। কিন্তু পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ক্রমশ চালের দাম উর্ধ্বোমুখী হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন, নিন্ম ও মধ্যবিত্তরা।

এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখালেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, সাধারণ ক্রেতারা।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের সময় তেমন রোদ না থাকায় দাম কিছুটা বেশি ছিলো। আর বর্তমানে ওপেন এলসির সুযোগ না থাকায় দাম কমছে না। এছাড়া অনেকেই বাঁধায় করে রাখছেন এটিও চালের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে আগামী বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমবে।
একটি সূত্র বলছে, চালের বাজার অস্থীতিশীল করার পেঁছনে অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের প্রত্যাক্ষ হাত আছে। তারা সিন্ডিকেট করেই মূলত চালের দাম বাড়াচ্ছে। অথচ বিভিন্ন অজুহাতে দেখিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকে এরা কম দামেই চাল কিনছে। রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারের পাইকারি ও খুচরা চালের আড়তগুলো ঘুরে দেখা যায়, চালের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ১ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে কোনো কোনো চালের দামপ্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আটাশ চাল কেজি প্রতি দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা। পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি বস্তার দাম দুই হাজার ৯০০ টাকা, যা আগে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। মিনিকেটের দাম বেড়ে হয়েছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। পাইকারি বাজারে এর দাম দুই হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজারে ১০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাইকারি বাজারে জিরাশালের দাম ৩০০ টাকা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৮০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে দুই টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়। বাসমতি চালের দাম বস্তা প্রতি ৬০০ টাকা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকা। এতে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে তিন টাকা। বাসমতি এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশালের দাম এখন ৪০০ টাকা বেড়ে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকায়। শরণা চালের দাম বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৪০০ টাকা। খুচরা বাজারে নাজিরশালের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গুটি শরণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে।
শনিবার (৬ মার্চ) সকালে সাহেববাজারে চাল কিনতে এসেছিলেন, শিলা। তিনি জানান, তাদেরকে প্রতিদিনই চাল কিনতে হয়। চালের দাম এখন বাড়তি। দাম কমার কোন নাম নেই। সবজির দামটা কম আছে। চালের দামটাও কমা উচিত।
চাল ব্যবসায়ী সুন্ময় চাউল ভান্ডারের মালিক জানান, এখন ধানের দাম বেশি। যার কারণে চালের দামটাও বাড়তি। এছাড়া বড় বড় ব্যবসায়ীরা মজুদ করে চালের বাজারটাকে নিজেদের মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছেন। যার কারনেই চালের দাম কমছে না।
তিনি আরও জানান, সরকার ওপেন এলসির সুযোগ দিলে ছোট ব্যবসায়ীরা চাল আনতে পারবে। বড় ব্যবসায়ীদের দ্বারা বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। তবে সামনে নতুন চাল বাজারে আসলে চালের দাম কমবে।

এদিকে, চালের বাজারে এমন অস্বস্থির মধ্যে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে আছে কাঁচাবাজার। এদিন বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে, ১৪ খেকে ২০ টাকা কেজি, বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, আদা ৬০ থেকে ৯০ টাকা, পটল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, গাজর ১৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডুমুর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস, মটরশুঁটি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কলা ২০ থেকে ২৫ টাকা হালি, ফুলকপি ও বাধাকপি ১০ টাকা পিস, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, লালশাক-পুঁইশাক- সবুজ শাক-পালং শাক ১৫ থেকে ২৫ টাকা আঁটি।

মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৮৭০ টাকা। মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লাল লেয়ার ২১০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৯০ টাকা, সোনালি ২৮০-৩০০ টাকা, রাজহাঁস ৪৫০ টাকা ও পাতিহাঁস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

মাছের মধ্যে ইলিশ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, টেংরা মাছ ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, কই ২০০ থেকে ৮০০ টাকা, মৃগেল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা, কালবাউস ১৬০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

SHARE