অভিযোগের তীর মিনহাজ ও জাহাঙ্গীরের দিকে!

16

স্পোর্টস রিপোর্টার : আবারো পাতানো ম্যাচের গন্ধ পাওয়া গেছে দেশের ফুটবলে। তবে এবার ফুটবলে থাবা পড়েছে অনলাইন বেটিংয়ের। ক্যাসিনো-কাণ্ডে আগে থেকেই বিতর্কে থাকা আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের ভারতীয় কোচ ও দুই কর্মকর্তা জড়িয়ে পড়েছেন এই বেটিংয়ের সঙ্গে। নাম এসেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ব্রাদার্স ইউনিয়নেরও। তবে ক্লাবটির কোন কর্মকর্তা বেটিংয়ে জড়িয়েছেন তা এখনো পরিষ্কার করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ঢাকার ক্লাব ফুটবলের অন্ধকার অধ্যায়ের কথা এখন চলে গেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কানেও। তারা বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্তে করতে নির্দেশ দিয়েছে বাফুফেকে। এএফসির নির্দেশনা পেয়ে এরইমধ্যে মাঠে নেমেছে দেশের ফুটবলের শীর্ষ সংস্থাটি।

আরামবাগের সাবেক ভারতীয় কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যের কিছু কর্মকাণ্ডই খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম সন্দেহ তৈরি করে।
ডাগআউটে মুঠোফোন রাখা নিষিদ্ধ হলেও ফেডারেশন কাপে ডাগআউটে তার সঙ্গে মুঠোফোন থাকতো। এই কোচ ছাড়াও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ক্লাবটির দুই কর্মকর্তা। এদের একজন মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ ও অপরজন গওহর জাহাঙ্গীর। বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল এই মৌসুমের আগে ক্লাবের জন্য পৃষ্ঠপোষকের ব্যবস্থা করেন। মিনহাজের প্রচেষ্টায় দল গঠন করে আরামবাগ। ভারতীয় কোচিং স্টাফ নিয়ে নীলফামারিতে ক্যাম্প করেন মিনহাজ। সঙ্গে নেন গওহর জাহাঙ্গীরকে। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় ফুটবল দলের ম্যানেজার ও সম্পাদকের। ভারতীয় কোচিং স্টাফ নিয়োগসহ দল গঠনের যাবতীয় কাজ তাদের মাধ্যমেই হয়েছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বেটিংয়ে জড়িয়েছেন এই কর্মকর্তা। ভারতীয় কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যের কথাতেও তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গিয়েছে। ভারতীয় এই কোচের দাবি কর্মকর্তাদের দেয়া তালিকা দেখেই তিনি দল সাজাতেন। আসরে ৯ ম্যাচে আরামবাগ হজম করেছে ৩২ গোল। এই গোলেই বেটিং করেছেন ক্লাবটির দুই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে এবারের ফিক্সিংটা হয়েছে একটু অন্যধরনের। এখানে পয়েন্ট কেনা বেচা হয়নি। যে কারণে দুটি দল মাঠে খেললেও বেটিংয়ে জড়িয়েছে একটি ক্লাব।

পাতানো ম্যাচের সন্দেহে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের কাছে জানতে এরইমধ্যে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ইতিমধ্যে উত্তর দিয়ে উল্টো বাফুফের কাছে জানতে চেয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কোন ভিত্তিতে। আরামবাগও তাদের চিঠির জবাব দিয়েছে। ক্লাব দুটির জবাব পেয়ে বাফুফে সাধারণ সস্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘আমরা ব্রাদার্সের কাছে সুনিদৃষ্ট কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে আবারো চিঠি দিয়েছি। আর আরামবাগের উত্তরের প্রেক্ষিতে তাদের কাছে আরো কিছু বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে’। এই দুই ক্লাবের উত্তর পেলেই পাতানো ম্যাচ তদন্ত কমিটি বিষয়টি নিয়ে বসবে বলে জানান বাফুফের এই কর্মকর্তা। তবে যাদের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ তারা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। আরামবাগ ক্লাবের সাবেক ম্যানেজার গওহর জাহাঙ্গীর উল্টো ভারতীয় কোচ সুব্রত ও কিছু ফুটবলারের উপর দায় চাপিয়েছেন। আর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মিনহাজ।

যে পাঁচটি ম্যাচ ঘিরে তদন্ত নেমেছে বাফুফে তার তিনটিতে জড়িত আরামবাগ এবং দুটিতে ব্রাদার্স। অভিযুক্ত প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১৭ই জানুয়ারি। ওই ম্যাচে মোহামেডানের কাছে ৩-০ গোলে হার মানে আরামবাগ। ১৯শে জানুয়ারির ম্যাচে বাদার্স ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারায় ঢাকা আবাহনী। ২৩শে জানুয়ারি বসুন্ধরা কিংসের কাছে ১-০ গোলে হারে আরামবাগ। ৯ই ফেব্রুয়ারি শেখ রাসেলের বিপক্ষে আরামবাগের হারের ব্যবধান ছিলো ৪-০। গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি আবারো চার গোল হজম করে আরামবাগ। এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী।

SHARE