‘নির্বিঘ্নে নেয়া যাবে টিকা’

22

স্টাফ রির্পোটার : করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগের জন্য নগরীসহ রাজশাহী জেলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, সকল প্রস্তুতি শেষ করে সামনে মাসেই টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এখন চলছে তালিকা তৈরি এবং টিকা প্রয়োগ কার্যক্রমের সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের কাজ। করোনা ভাইরাসের প্রথম এ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতুহল ও সংশয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক টিকারই সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এক্ষেত্রেও হয়তো সাধারণ কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। তবে, নির্বিঘ্নে কোনো সংশয় ছাড়াই টিকা নেয়া যাবে।

রাজশাহী নগর ও জেলা টিকা প্রয়োগ কমিটির তথ্য মতে, করোনার টিকা প্রয়োগকে কেন্দ্রে করে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রয়োগকৃত টিকার জন্য কোনো মূল্যে পরিশোধ করতে হবে না টিকা গ্রহীতাকে। রাজশাহী নগরীতে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে চারটি কেন্দ্র। এই চার কেন্দ্রে মোট ১৬ টি বুথে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হবে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগর ভবন, রাজশাহী পুলিশ লাইন হাসপাতাল ও রাজশাহী সেনানিবাস হাসপাতাল। এর বাইরে জেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে ঠিকা প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্যান্য ইপিআই কার্যক্রমের চেইনের আদলেই টিকা দেয়া হবে।

টিকা প্রয়োগের পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে রাজশাহী সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদার জানান, প্রত্যেক টিকারই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। দেখা যায়- জ¦র আসে, ব্যথা হয়। সেক্ষেত্রে এরকম প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে অন্যান্য স্বাভাবিক টিকার মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনা টিকা নিয়ে কেউ মারা যাবে না।

তিনি আরো জানান, করোনা টিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা আগে পাবেন। কেননা করোনা আক্রান্ত হয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন। নির্বিঘ্নে কোনো দুঃচিন্তা বা দোদুল্যমানতা ছাড়াই করোনা টিকা নেয়া যাবে। এছাড়া কাউকে জোর করে টিকা দেয়া হবে না। সাধারণ মানুষ সকলকে টিকা দেয়াও হবে না। যারা টিকা নিতে ইচ্ছুক তারা নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করবেন। কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই করে যার টিকা প্রয়োজন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকে টিকা দেয়া হবে।

রাসিক-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, নগরীতে টিকা প্রদান কমিটি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। টিকা প্রদানে যে সকল স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করবেন তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যারা টিকা নিতে আগ্রহী তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই এই তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার মানুষের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের ট্রেনিং কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে। মূলত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়রর পরবর্তী করণীয় বিষয়গুলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেই হবে। আর টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের এতো সংশয়ের কিছু নেই। কেননা সাধারণ মানুষ এখন টিকা পাবে না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাদের টিকা প্রয়োজন তারাই টিকা নিতে পারবেন। এছাড়া জোর করে কাউকে টিকা দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবর্তী মা ও ক্রনিক ডিজিজে ভুগছেন তারা কেউ প্রথম পর্যায়ে টিকা পাবে না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই তালিকা করা হচ্ছে।

SHARE