রাজশাহীর দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন

26

স্টাফ রির্পোটার : রাজশাহীর দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (২২জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভা শাখা এর আয়োজন করে। কাটাখালী বাজারেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচি থেকে যাদের বহিষ্কার দাবি করা হয়েছে তারা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। হাবিবেরও বাড়ি পুঠিয়া উপজেলায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে শহিদ এক মুক্তিযোদ্ধার নাতিকে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ তুলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে এই মানববন্ধন করে।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সদস্যরা জানান, পুঠিয়ার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা করম আলীর নাতি মো. রাসেল স্ত্রীর দেনমোহর নিয়ে মামলায় পড়লে সমঝোতার দায়িত্ব নেন ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাহাঙ্গীর আলম। রাসেল দেন মোহরের দুই লাখ টাকা পরিশোধ করলেও এ দুই নেতা আরও ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। রাসেল এই টাকা দিতে পারেন নি।

টাকার জন্য গত ১৩ জানুয়ারি রাতে রাসেলকে নিজের বাড়িতে ডেকে চাপ দেন হাবিব। কিন্তু রাসেল টাকা দিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ কারণে পুলিশ ডেকে রাসেলকে ধরিয়ে দেন হাবিব ও জাহাঙ্গীর। পরে হাবিব থানায় রাসেলের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন। এতে অভিযোগ আনা হয়, হাবিবকে খুন করতে রাসেল তার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তারা এ মামলার সঠিক তদন্ত দাবি করেন। একইসঙ্গে তারা দুই ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাফিউল নেহাল, কাটাখালী পৌর শাখার সভাপতি ওয়ালি আহমেদ নয়ন, সাধারণ সম্পাদক সাগর আলী, উপদেষ্টা তারিক জামিল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি বিষয়টা বুঝলাম না। রাসেল আমার বাড়িতে আমাকেই মারতে এল, আবার আমার বিরুদ্ধেই মানববন্ধন হচ্ছে। রাসেল কেন তাকে মারতে চেয়েছিলেন জানতে চাইলে হাবিব বলেন, এটা তো প্রশাসন দেখবে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম বলেন, রাতে রাসেল হাবিবের বাড়িতে ঢুকেছিলেন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। এমন অভিযোগে রাসেলকে পুলিশে দেয়া হয়। এরপর মামলা করা হয়। তারা রাসেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এখন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

SHARE