‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরিতে সিইসিকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি

169

গণধ্বনি ডেস্ক : সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ ১৩টি সুনির্দিষ্ট অসঙ্গতি চিহ্নিত করে তা নিরসনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে পৃথক চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। চিঠিতে পুলিশসহ প্রশাসনের ৯২ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।

বিএনপির প্যাডে দলটির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর করা চিঠিগুলো বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কার্যালয়ে জমা দেয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় পুলিশের ৭০ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ২২ কর্মকর্তার দুটি পৃথক তালিকাও জমা দেওয়া হয়। এসব কর্মকর্তাকে আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করে তাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এসব কর্মকর্তার অতীত কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার চিত্রও তুলে ধরা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়ার নামও আছে এসব তালিকায়।

পরে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির জন্য পুলিশের দলবাজ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য বলেছি। পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের মতো পদধারী ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি, যারা সমতল মাঠকে অসমতল করার কাজে ব্যস্ত। তাদের নাম-পদবি, কর্মস্থলসহ সকল তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সিইসি নিরপেক্ষ থাকার জন্য পুলিশদের আহ্বান জানিয়েছেন। আহ্বান জানানো মানে অনুরোধ করা। তিনি তো নির্দেশ দেবেন।’

আলাল আরও বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা চোখে পড়েছে, তার মধ্যে একটি হলো— মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ওনার পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। বঙ্গভবনে কিশোরগঞ্জের লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং সেখানে তাদের রাষ্ট্রীয় খরচে আদর-আপ্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো প্রভাব বিস্তারের একটা অন্যতম উদাহরণ হিসেবে আমরা মনে করি।’

একটি চিঠিতে পুলিশ বিভাগের ‘দলবাজ’ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনটিএমসি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বিতর্কিত দলকানা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তারেক রহমানের স্কাইপ কথোপকথন বন্ধ করেছেন। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের আশপাশে ইন্টারনেট কার্যক্রম বন্ধ করেছেন, সেটাও আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিএনপি নেতাকর্মীদের এখনো গ্রেফতার চলছে। এমনকি মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারা মনোনয়ন বোর্ডে হাজির হতে পারছেন না। এখনো ঢাকা শহরের বহু জায়গায় নৌকা ও লাঙলের পোস্টার রয়েছে।

আলাল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ডেকে গত ১৬ নভেম্বর বৈঠক করেছেন। পরে ২০ নভেম্বর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার তার এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ডেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন আইনের লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঢালাও অভিযোগ করি না। আজকে লিখিতভাবে সব তথ্যপ্রমাণসহ দিয়ে গেলাম।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর দেয়া চিঠিগুলোতে দেখা গেছে, মোয়াজ্জেম হোসেনের উদ্ধৃত করা অভিযোগ ছাড়াও রয়েছে নয়া পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বিএনপি অফিসের সামনে গণজমায়েতে পুলিশি হামলার পর গ্রেফতার করা হলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার ঘটনায় মোহাম্মদপুরে দু’জন নিহত হয়েছে। সে ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।

একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কর্মস্থলের থানার বাইরে অন্য থানায় দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। কারণ তা না হলে ওই জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এমপি-জনপ্রতিনিধিরা তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাতে পারে।

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে উল্লেখ করে একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব জরিপে আওয়ামী লীগকে প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি একাত্তর টিভিতে এ রকম একটি জরিপ প্রচার করা হয়েছে। এ ধরনের কূটকৌশল সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের অনুসারী কর্মকর্তাদের খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের এ ধরনের তালিকা অনুযায়ী বা গণহারে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার আবেদন জানানো হয় চিঠিতে। এছাড়া নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ডকুমেন্টারি মুভি ও মিডিয়ায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধেরও দাবি জানানো হয়েছে।

SHARE