বাগমারায় আবু হেনাকে অবাঞ্চিত ঘোষণ

161

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় বিএনপি’র সাবেক এমপি আবু হেনাকে বাগমারায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করে দলীয় মনোনয়ন না দিতে বিএনপি’র নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাগমারা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বাগমারা বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাগমারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এস.এম আরিফুল ইসলাম আরিফ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে বাগমারা আসনে, সাবেক এমপি আবু হেনার আগমনের ফলে বিএনপি নেতা কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক পরাজয়ের আতংক দেখা দিয়েছে। সুবিধাবাদি ও বিএনপি বিদ্রোহী আবু হেনাকে পূনরায় বাগমারায় এমপি পদে নমিনেশান দেওয়া হলে তৃণমূলের জনগণ কখনোই তাকে মেনে নিবেনা।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এই সেই আবু হেনা যিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য, অতিরিক্ত সচিব এবং পরে বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এর মহাপরিচালক পদে ০২ বছর দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে দায়িত্ব চ্যুত হন। পরে আওয়ামীলীগ ব্যনারে বাগমারা মোহনপুরে নির্বাচন করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাহেরপুর হাইস্কুল মাঠে ১৯৯৫ সালে জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তখনকার মনোনয়ন যুদ্ধে ব্যার্থ হয়ে তৎকালীন বিএনপির কিছু নেতাদের ম্যানেজ করে ১২ই জুন ১৯৯৬ নির্বাচনে মনোনয়ন আদায় করে এবং নির্বাচিত হন। আবার ২০০১ সালের নির্বাচনেও ওই একই কায়দায় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হন। যদিও জনগণ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার ফলে তিনি নির্বাচিত হন। পর পর দুই বার নির্বাচিত হলেও জনগণের কোনরকম সেবা কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হননাই। ২য় বারের মতো এমপি হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব নেওয়ার যুদ্ধে ব্যার্থ হয়ে ধীরে ধীরে বিএনপির বিরোধীতা শুরু করেন।
বক্তব্যে আরো বলা হয়, তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিলের ঘোষিত ট্রাম কার্ড রুপি বিএনপির উচ্চ ভিলাসী ৬০ জন এমপির অন্যতম ছিলেন এই আবু হেনা এমপি। এই সেই আবু হেনা যিনি দৈনিক জনকন্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক জনাব রেজোয়ানুল হকের সাথে আলাপকালে যা বলেছেন তা দৈনিক জনকণ্ঠে গত ১৮/১১/২০০৫ইং তারিখে সংখ্যায় প্রকাশ হয়েছে। সেখানে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন মৌলবাদী জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে গোটা দেশকে বিপন্ন করে তুলছে বিএনপি সরকার। তিনি আরও বলেছেন সংসদ আগেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এখন এটা মৃত্যু কূপ ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরো বলেন একের পর এক হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটছে কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা লোক দেখানো। এতেই তিনি খ্যান্ত হননাই। ঝালুকাঠি বোমা হামলায় নিহত বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ের অকাল বিধবা স্ত্রীকে যখন তার সিঁথির সিদুর মুছে ফেলতে হচ্ছে তখন তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সার্ক সাফল্যের জন্য ফুল উপহার নিচ্ছেন। সাংবাদিকেরা আবু হেনা কে প্রশ্ন করেন আপনার এলাকা থেকেই জঙ্গি তৎপরতার উত্থান ঘটেছে। তখন আপনি কি ভূমিকা পালন করেছেন। উত্তরে তিনি বলেন কমপক্ষে ১০ বার প্রধানমšী¿ খালেদা জিয়াকে বলেছি, কিন্তু তিনি বিষয়টি আমুলে নেয়নি।
বাগমারার অসহায় জনগণের কথা বিবেচনা করে বিএনপির সংগঠনটি জোরদার করতে লিখিত বক্তব্যে দাবী জানানো হয়, আবু হেনাকে অবাঞ্জিত করে, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করে এমপি নমিনেশান দেওয়া হোক। আমরা জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বাগমারার প্রত্যান্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছি আবু হেনাকে নমিনেশান দেওয়া হলে এই আসনটিতে ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত। আবু হেনা এমপি নির্বাচিত হলে হোটেল সোনারগাঁতে স্থায়ী বসবাস করেন ফলে বাগমারার অসহায় মানুষ সকল সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
বর্তমান আওয়ামীলীগের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে জয়লাভ করার জন্য একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী একান্ত প্রয়োজন। আমরা বিএনপির নীতি নির্ধারকদের কাছে আবেদন জানাই ভবিষ্যৎ বিএনপির ও তরুণ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে সুবিধাবাদি ও বিএনপির বিরোধীতাকারি আবু হেনাকে নমিনেশান না দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবী জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যেদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন, বাগমারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রকিবুল ইসলাম সিদ্দিক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মহবত হোসেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এম.এস আলম, সহ-সম্পাদক বায়েজীদ ফোজদার, তাহেরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আমজাদ মন্ডল, বাগমারা ১৫ নং যোগীপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম টুটুল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, হামিরকুৎসা ইউপি ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রমূখ।

SHARE