রাজশাহীতে মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

28

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক ) হাসপাতালে মদ পানে পাঁচজনে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়াও হেঁতেমখা এলাকার হাবিবের ছেলে কলপ (২২) নামের একজন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, নগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকার আইনুল ইসলামের ছেলে ফাইসাল (২৮), জেলার বাগমারা উপজেলার শান্তাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে সজল (২৫), নগরীর বাকির মোড় এলাকার উত্তমের ছেলে সাগর (২৫) ও হেঁতেমখা এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে তুহিন (২৬) ও নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার সেলিম আহম্মেদের ছেলে মুন আহম্মেদ (২২)।
রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মোট ৭ জন তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পোস্ট মর্টেম ছাড়া মৃত্যুর আসল কারণ বলা যাবে না। সম্ভবত থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে বা নতুন বছরের অনুষ্ঠানে তারা মদ খেয়েছিল। এটা গোপন রাখে। পেট ব্যাথা ও অন্যান্য সমস্যার কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে মদ খাওয়ার কথা জানায়।
রামেক সূত্রে জানা গেছে, আরো কয়েকজন মদপান করে অসুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে চলে গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান বাদশা জানান, বেশি রেকটি-ফাইট স্পিরিট থাকায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। এই মদগুলোতে সাধারণত কাঠের আসবাপত্রে বার্নিশের কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্পিরিট গ্রহণ করায় শরীরের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর। বেশি গ্রহণে মৃত্যু হতে পারে। বিষয়টি ফরেন্সিক বিভাগের রিপোর্ট হলে আরো ভালো ভাবে জানা যাবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা অ্যালকোহল জাতীয় কিছু খেয়েছে। তাদের শরীর থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল ল্যাবে রিপোর্ট এ পাঠানো হয়েছে। ল্যবের রিপোর্ট শেষে বলা যাবে তারা আসলে কি খেয়ে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, শনিবার চারটি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। চারটির শরীরে বিষক্রিয়া পাওয়া গেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে তারা একজন একজন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। প্রচন্ড অ্যাসিডিটি ও বমি হওয়ার ফলে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক জানান তারা মদ পানে মারা যান।
রাজপাড়া থানার (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত নয়টা থেকে ১০ টার সময় মহানগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকায় তারা মদপান করেন। এদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। (ওসি) মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর রোকট থানায় আছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভুগি সবাই এই বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্তায় তদন্ত করে দেখবো। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

SHARE