দুই নারীতে আলোচনায় আসে রাজশাহী

34

স্টাফ রির্পোটার : নিয়ম মেনেই আজও ভোরের পূব আকাশ রাঙিয়ে সূর্য উঠেছে। কিন্তু এই সূর্যোদয় নতুন বছরের। পেছনে চলে গেছে ২০২০। বিদায়ী এই বছরটিতে করোনা সংকটে জেরবার রাজশাহীর মানুষ। ছোটবড় নানান ঘটনা-দুর্ঘটনা চাপা পড়েছে এই মহামারিতে।

তবুও গেলো বছরে রাজশাহীর দুটি ঘটে যাওয়া ঘটনা ভাইরাল হয়েছে দেশজুড়ে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে বেশ।

বিদায়ী বছরের শেষের দিকে ভাইরাল হয়েছেন রাজশাহীর প্রথম ও একমাত্র নারী পত্রিকা বিক্রয়কর্মী জোহরা দিল আফরোজ খুকি। পুরনো ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে চারদিকে সোরগোল পড়ে যায়। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোঁজ নেন রাজশাহীর এই অদম্য নারীর। তার জরাজীর্ণ বাড়িতে বাড়তে থাকে ভিড়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নলকূপ বসিয়ে পানির সংকট দূর করেন। খুকির তিন বেলা খাবারের দায়িত্ব নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে তার জীর্ণশীর্ণ বাড়িটি সংস্কার করে দেয়া হয়েছে।

১৯৯১ সালে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘দুনিয়া’ হাতে নিয়ে পথে নামেন খুকি। এখন সাপ্তাহিক দুনিয়া বন্ধ। কিন্তু থামেনি তার পথচলা। নিয়ম করে এখনও রোজ পত্রিকা নিয়ে রাস্তায় বের হন। পত্রিকা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের প্রায় সবটাই বিলিয়ে দেন অসহায় মানুষের মাঝে।

জানা গেছে, দিল আফরোজ খুকির বাবা হাফিজুর রহমান ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় আনসার অ্যাডজুট্যান্ট। আর মা সামশুননাহার ছিলেন সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষিকা। কিশোরী বয়সে বৃদ্ধের সঙ্গে তার বিয়ের হয়। কিন্তু সে সংসারের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র এক মাস। এরপর ঢাকায় আবারও বিয়ে হয়। কিন্তু সেই স্বামী মারা যান। এরপর থেকে খুকি মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

নিঃসন্তান খুকি ১২ ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন দশম। কিন্তু কেউই তার দায়িত্ব নেননি। শেষে পৈতৃক ভিটা নগরীর শিরোইল এলাকায় দুটি ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

বছরের শেষ দিকে গত ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে ‘নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোগে দাঁড়ানো’ ক্যাটাগরিতে জেলা পর্যায়ে জয়িতা সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।

অপরদিকে রাজশাহী নগরীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন সড়কে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বসে ধূমপান করছিলেন এক তরুণী। এ ঘটনা দেখে প্রথমে মাঝবয়সী এক ব্যক্তি তাদের সিগারেট ফেলে দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। মুহূর্তেই সেখানে লোকজন জড়ো হন। দু’পক্ষের মধ্যে চলে বাদানুবাদ। শেষে ওই তরুণী বন্ধুর সঙ্গে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

কেউ একজন পুরো দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে প্রকাশ করেন ফেসবুকে। এরপর তা ছড়িয়ে যায় নেট দুনিয়ায়। বছরের শেষ দিকে গত ৬ ডিসেম্বরের একই ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল তর্ক-বির্তক। তবে এনিয়ে হেনস্তার শিকার তরুণী অভিযোগ না করায় হেনস্তাকারীকে চিহ্নিত করেও আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।

SHARE