১ বছরে রাজশাহীতে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার

53

স্টাফ রির্পোটার : করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরিস্থিতিতে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েই চলছে। রাজশাহীতে দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের এক জরিপে নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি সম্পর্কে এ তথ্য তুলে ধরেন উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস)। বৃহস্পতিবার সংগঠনের ডকুমেন্ট সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জরিপে ‘২০২০ সালে রাজশাহীতে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও সারা বছরে হত্যা ৩০, আত্মহত্যা ৬২, আত্মহত্যা চেষ্টা ১১, ধর্ষণ ৫৭, যৌন নির্যাতন ৩১, নির্যাতন ৯৯, পর্নোগ্রাফি ৮, এসিড ভায়োলেন্স ৫, নিখোঁজ ও অপহরণ ২২, আহত ২৩ জন নারী ও শিশু এ ঘটনার শিকার দেখানো হয়েছে।
এর কারণ হিসেবে যৌতুক ও পরকীয়ার ঘটনাকে নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ি করছে সংগঠনটি। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা, আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার-এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন ‘২০২০ সালের বেশির ভাগ সময় কেটেছে করোনার ভয়াল থাবায়। সকলে যখন করোনা নামক ভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষায় ব্যস্ত সেখানে এক শ্রেণির মানুষের হাতে ২-৫ বছরের শিশু সন্তানও ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সারা বছর জুড়ে রাজশাহী জেলায় নানা পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না এমন বাস্তবতায় রাজশাহীতে ২০২০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য আশংকা জনক।
রাজশাহী অঞ্চলে নারী শিশু নির্যাতন সহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না করলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। নারী ও শিশুদের জন্য আরও জোরালো ভাবে সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
করোনায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং আত্মহত্যার প্রবণতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সুফি বলেন, দীর্ঘদিন একাকিত্ব, কর্মবিমুখতা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক আচরণগত পরবির্তন শুরু হয়। মানসিক চাপ পারিবারিক জীবনে নিয়ে আসে অবসাদের ছাপ। একারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে পারিবারিক কলহসহ আত্মহত্যার প্রবণতা।

SHARE