হাল ছাড়েননি ববিতা মার্ডি

35

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১৬ জানুয়ারি রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার নির্বাচন। এই নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মাহালী সম্প্রদায়ের ববিতা মার্ডি। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও তিনি এই পদে লড়েছিলেন। প্রায় ২০০ ভোটে ফেল করেন। কিন্তু থেমে যাননি। আরও উৎসাহ, আরও উদ্দীপনা নিয়ে এসেছেন ভোটের মাঠে। তার বিশ্বাস, এবার ভোটাররা তাকে বেছে নেবেন।

ববিতা মার্ডির বাড়ি কাঁকনহাট পৌর এলাকার সুরশুনিপাড়া মহল্লায়। তার স্বামীর নাম সিলভেস্টার টুডু। ববিতা দুই কন্যাসন্তানের মা। ববিতা পড়াশোনা করেছেন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। তিনি পৌরসভার দুই নম্বর সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও তিনজন নারী। ববিতা মার্ডি এবার নির্বাচনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনে তিনি বেছে নিয়েছেন ‘জবা ফুল’ প্রতীক।

বুধবার সকালে প্রতীক বরাদ্দের সময় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরেই ববিতা মার্ডিকে পাওয়া যায়। সেখানেই তার সঙ্গে কথা হয়। ববিতা মার্ডি বলছিলেন, গোটা কাঁকনহাট পৌর এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার প্রায় আড়াই হাজার। কিন্তু তাদের সম্প্রদায় থেকে কেউ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হননি। তাদের কোন প্রতিনিধি থাকে না। কেউ তাদের কথা বলে না। তাদের কোন অংশীদারিত্বও নেই। এ জন্যই তিনি নির্বাচনে আসছেন। ববিতা বলছেন, শুধু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীই নয়, সবার ভোট নিয়েই তিনি নির্বাচিত হতে চান। কাজ করতে চান সব মানুষের জন্যই।

প্রথম ধাপে রাজশাহীর দুটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে কাঁকনহাটসহ দুটি পৌরসভার ভোট হচ্ছে। তৃতীয় ধাপেও রাজশাহীর দুটি পৌরসভায় নির্বাচন হবে। কিন্তু কোথাও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের কেউ নির্বাচন করছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। ববিতা মার্ডিই একমাত্র নির্বাচন করছেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও ববিতা মার্ডি এই জনগোষ্ঠী থেকে একমাত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে ববিতা মার্ডি বলেন, ‘কাঁকনহাট প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। সেখানে ভোট করা খুব কষ্টকর। নানারকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।’ ববিতা টুডু আরও কিছু যেন বলতে চাইলেন। কিন্তু বললেন না। শুধু বললেন, ‘প্রতীক পেলাম। মানুষের দ্বারে দ্বারে যাব। বোঝাব যে, আমি গরীব মানুষ, আপনারাও গরীব। আমরা একে-অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই। এবার তারা নিশ্চয় বুঝবেন। আমাকে ভোট দেবেন।’

রাত ৯টার দিকে ববিতা মার্ডির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী সিলভেস্টার টুডুকে পাওয়া যায়। তিনি জানালেন, পোস্টার ছাপানো হয়েছে। তারা একসঙ্গে পোস্টার টানানোর কাজ করছেন। সিলভেস্টার বললেন, ‘আমাদের টাকা-পয়সা নাই। ভোটে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করতে পারব। এটা খরচ করাই আমাদের জন্য কঠিন। তাই প্রচারণায় খুব বেশি খরচ না বাড়িয়ে বাড়ি বাড়ি যাব। গতবার ভোটে হেরেও তো পাঁচটা বছর ধরেই ববিতা আপদে-বিপদে মানুষের পাশে থেকেছে। মানুষ এটা দেখেছে। এবার তারা নিশ্চয় এটার মূল্যায়ন করবে।’

SHARE