গরু ভর্তি ট্রাক ছিনতাই : ৬ বার গাড়ির নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করেও রক্ষা হলো না

43

নাটোর প্রতিনিধি : গরু ভর্তি ট্রাক ছিনতাই করে ৬ বার গাড়ির নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করেও রক্ষা হলো না ৫ ডাকাতের। নাটোর জেলা পুলিশের অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অবশেষে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। ট্রাকভতি গরু ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতরা দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। ডাকাতিকালে তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত মোট ৬ বার গাড়ির নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
এসময় পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরের ১৮ জুলাই নাটোরের বড়াইগ্রামে ১৬টি গরুভর্তি ট্রাক ছিনতাইয়ের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ গরুভর্তি ট্রাক উদ্ধার ও ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশসহ পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে ডাকাত দলের সদস্য ফরহাদ হোসেন এবং বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ জুলাই রাতে উভয়কেই নিজ এলাকা নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম ও নাটোর সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক নম্বর আসামী ফজলে রাব্বীকে তার নিজ এলাকা নাটোরের বড়াইগ্রামের কায়েমকোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুমিল্লার দাউদকান্দি তালতলীর চান মিয়ার ছেলে আ. আউয়াল, ঢাকার নবাবগঞ্জের পাড়াগ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে গত ৩ নবেম্বর রাতে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চিটাগং রোড ডাচবাংলা ব্যাংকের সামনে থেকে গ্রেফতার করা করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ জুলাই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একাব্বরপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে গরু ব্যবসায়ী সিরাজ(৪২) দিনাজপুরের আমবাড়ী হাট থেকে ১৬টি গরু ক্রয় করে ট্রাকযোগে নোয়াখালী ফিরছিলেন। পথে ১৭ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার ডাকাত দলের সাথে যোগসাজেসে ট্রাকের ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এসময় তারা গরুর মালিক সিরাজ ও রাখালকে ধাক্কা দিতে বলে। পরে নিচে নেমে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেওয়ার সময় পার্শ্বে থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা এসে গরুর মালিক সিরাজ ও রাখালকে পিটিয়ে আহত করে আখ ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে টহলরত পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি।

SHARE