মুঠোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত হলো খণ্ডিত লাশের পরিচয়

24

হেলাল উদ্দীন, বাগমারা : খন্ডিত লাশের পাশে পড়ে ছিল তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন। সেই মুঠোফোনের মাধ্যমে শনাক্ত হলো অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয়। তিনি হলেন রাজশাহীর বাগমারার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বাজেকোলা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫২)। পরে পরিবারের লোকজনকে ফোন করে জানানো হলে তাঁরা এসে লাশ শনাক্ত করে দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে যান। ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে তিনি আতœহত্যা করতে পারেন বলে পরিবার ও এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। তবে কোনো ট্রেনে তিনি কাটা পড়েছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের লোকজন জানান, গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রফিকুল ইসলাম। বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাঁর সন্ধানের চেষ্টা করেও পাননি। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করেও অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ সোমবার ভোরে বাড়ি থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে উপজেলার বীরকুৎসা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে তাঁর খন্ডিত লাশ দেখতে পান। লাশের মুখমÐল বিকৃত অবস্থায় থাকায় তাঁর পরিচয়ও উদ্ধার করতে বেগ পেতে হয় লোকজনকে। তবে লাশের পাশে একটি বন্ধ মুঠোফোন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তা চালু করে পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সকাল ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুঠোফোন ও পোশাক দেখে ওই খÐিত লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ওই গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, লাশের মাথা ও মুখমÐল থেঁতলে যাওয়াতে তাঁকে শনাক্ত করতে সময় লেগেছে। তবে মুঠোফোন ও পোশাকের কারণে তাঁকে শনাক্ত করা সহজ হয়েছে। মানসিক অশান্তির কারণে তিনি আতœহত্যা করতে পারেন বলে জানান।

নিহত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তানজিলা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী জমা-জমা বিক্রি, ঋণ করে ও জমানো টাকা খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। তবে প্রতারিত হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এসব চাপে তাঁর স্বামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আতœহত্যা করেছেন বলে জানান। তাঁদের কোনো শক্রু বা কারোর সঙ্গে বিরোধ ছিল না।

যোগিপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক আবদুর রহিম বলেন, তাঁরা বিষয়টি শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থল তাঁদের এলাকায় হলেও এটা রেলওয়ে পুলিশ দেখভাল করেন। সেখানে অপমৃত্যু মামলা হবে।

SHARE