পরীক্ষা দিচ্ছে ১২ অন্ধ কিশোর

220

পাবনা প্রতিনিধি : অন্ধ-বিকলাঙ্গসহ শারীরিক নানা প্রতিবন্ধিতার শিকার অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্ট। অন্ধকার থেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত জীবনের সন্ধানে এখানে বসবাস করছে অনেক প্রতিবন্ধী।

প্রতিবারের মতো এবারও পাবনার আলোকিত মানুষ গড়ার কারখানা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১২ অন্ধ কিশোর।

শ্রুতি লেখকের সহায়তায় পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস স্কুল কেন্দ্র থেকে ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার সফলভাবে পরীক্ষা শেষ করবে তারা।

তারা হলো- কুমিল্লার বাপ্পি চন্দ্র দে, রাজশাহীর মো. রুবেল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, মো. আব্দুস সবুর, নাটোরের আমিরুল ইসলাম, পাবনার সুজানগর উপজেলার লোকমান হোসেন, পাবনার দোগাছি ইউনিয়নের মো. আলামিন, কুমিল্লার রাসেল আহম্মেদ, নওগাঁর মাসুদ রানা, মো. কাওসার ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহীন আলম ও জয়পুরহাটের মোশাররফ হোসেন।

শুধু এই ১২ অন্ধ কিশোরই নয়; নানাভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার এবং পথশিশুসহ ১৮৫ জন অসহায় এই প্রতিষ্ঠানে লালিতপালিত হচ্ছে।

জানা যায়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতি লেখককে শোনায় এবং শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনায়। এ কারণে পরীক্ষায় তাদের তিন ঘণ্টার অতিরিক্ত ২৫ মিনিট বেশি সময় দেয়া হয়। এই ১২ জন পরীক্ষার্থীর মতো আরও ৮৫ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সাতজন ৯ম শ্রেণিতে, ১১ জন ১০ম শ্রেণিতে, ছয়জন একাদশ শ্রেণিতে, তিনজন এমএসহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা এখানে থেকে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নত শিক্ষালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠতে পারে।

SHARE