শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু আজ থেকে

42

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো। তবে বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার মহাধুমধামে হচ্ছে না দুর্গাপূজা। ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শারদীয় দুর্গাপূজার এবারের আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে মণ্ডপগুলোতে পূজার জৌলুস কম থাকবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে মর্তে আসেন দেবি দুর্গা। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। দেবির অবস্থানকালে পাঁচ দিন পৃথিবীতে ভক্তরা দেবি মায়ের বন্দনা করে। এই বন্দনাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসব আনন্দে মেতে উঠেন।
মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। দেবিপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন হয় মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেদিন ‘কন্যারূপে’ মর্তে আসেন দেবি দুর্গা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠান। মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
রাজশাহীতে দুর্গাপূজার সব ধরনের উৎসবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজার সকল অনুষ্ঠানাদিতে পূজারী, ভক্তকূল এবং আগত দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে একসঙ্গে অধিক সংখ্যক দর্শনার্থী-ভক্তের মণ্ডপে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকালে কোনো ধরনের শোভাযাত্রারও আয়োজন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ২২ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সকল প্রকার অস্ত্র বহন, আতশবাজি, পটকা ফুটানো, বিস্ফোরকদ্রব্য বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবহার এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় উচ্চস্বরে মাইক ও গান বাজানোসহ পূজামন্ডপ ও তার আশেপাশে এবং প্রতিমা বিসর্জনকালে যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইখতেখায়ের আলম জানান, রাজশাহীতে এবার ৩১০ টা পূজামণ্ডপ থাকছে। এই মণ্ডপগুলোতে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মণ্ডপের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিট পুলিশসহ সার্বিক নিরাপত্তায় পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি ও গোয়ান্দো সংস্থা কাজ করবে।

SHARE