রাবি মেডিকেল সেন্টারে মিলছে উন্নত চিকিৎসা

177

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মেডিকেল সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করলেই সামনে একটি ছোট ঘরে দেখা যাবে অটোমেশন যন্ত্র। সেখানে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মার্ট আইডি কার্ড পাঞ্চ করছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার পর, যে রোগের চিকিৎসক দেখাতে চান সে বাটনে চাপ দিলেই টোকেন বেরিয়ে এলো। টোকেনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম, নির্ধারিত কক্ষ ও শিক্ষার্থীর পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। টোকেন নিয়ে তিনি সরাসরি গেলেন চিকিৎসকের কক্ষে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পর গেলেন মেডিকেল সেন্টারের ফার্মেসিতে। চিকিৎসক ততক্ষণে তার পেসক্রিপশন কম্পিউটারে ফার্মেসিতে পাঠিয়েছেন। ফার্মাসিস্ট সার্ভারে প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ দিলেন। কোনো মেডিকেল কার্ডের ঝামেলা নয়। এদিক-সেদিক ছুটোছুটি কিংবা তৃতীয় কারো সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই। নেই সিরিয়াল দেওয়ার ঝক্কি। অত্যাধুনিক এই পদ্ধতিতে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রোগের বৈচিত্র্যতা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি তা নিবারণের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানেরও আধুনিকায়ন ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রমে আধুনিক হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার। প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে চলমান এই কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত করার কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে ডেন্টাল, প্যাথলজি, ফিজিওথেরাপি ইউনিটে বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্র যোগ করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এক্সরে মেশিন ও আলট্রাসনোর নতুন যন্ত্র কেনা হয়েছে। সরেজিমনে দেখা যায়, মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করাসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশে একটি পুরনো ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি ভবনটি সংস্কার করে চিকিৎসাকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে খোলা হয়েছে। এখানে অত্যাধুনিক ডেন্টাল ইউনিট, প্যাথলজি ও আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এক্স-রে ইউনিটে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন (৫০০ এমএ) এবং ডিজিটাল প্লান্টের সাথে এক্স-রে মেশিন যুক্ত করা হয়েছে। মেডিকেল সেন্টারে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে আলট্রাসনো, অত্যাধুনিক ইসিজি ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট। ফিজিওথেরাপি ইউনিটে এসডব্লুউডি, ইউএসটি, ইলেক্ট্রিক ফ্রাকশন, টেনস ও ওয়াক্স থেরাপিসহ কয়েক ধরণের সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। প্যাথলজি ইউনিটে পূর্বে সীমিত পরিসরে রোগের পরীক্ষা হলেও বর্তমানে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্যাথলজিতে এইচবিওয়ানসি, লিপিড প্রোফাইল টেস্ট, সিরাম বিলিরুবিনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে। মেডিকেল সেন্টারের জন্য কার্ডিয়াক সুবিধা সম্পন্ন একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে। সার্বক্ষণিক দু’টি অ্যাম্বুলেন্স রোগীদের আনা-নেয়া করা করছে। আউটডোরের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ইমার্জেন্সি ইউনিট করা হয়েছে। রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের জন্য রয়েছে প্রায় ৮০ ধরণের ওষুধ ও ইঞ্জেকশন। মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ জানান, বর্তমান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় মেডিকেল সেন্টারটিকে অত্যাধুনিক কনসালটেশন ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। অটোমেশনের আওতায় সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সব রেকর্ড থাকছে। চিকিৎসকের অ্যাটেনডেন্স, কী পরিমাণ ওষুধ দেয়া হচ্ছে, সব রেকর্ড অটোমেশন মেশিনে থাকবে। বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চাপে ভিড় লেগে যায়। তিনি আরও জানান, আউটডোরে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তুলতে একটি অর্গানোগ্রাম প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আওতায় নয়জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইমার্জেন্সির জন্য ছয়জন মেডিকেল অফিসার, ছয়জন টেকনোলজিস্ট ও চারজন নার্স নিয়োগ করা হবে। এটি দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়ে ইউজিসির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অর্গানোগ্রাম অনুমোদন পেলে মেডিকেল সেন্টারের সক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘প্রথম দিকে মেডিকেল সেন্টারটিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হতো। এখন ডেন্টাল, প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপির মতো চিকিৎসার আধুনিক সরঞ্জাম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আমরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছি।

SHARE