ফরিদপুর-৪ আসনে যারা মনোনয়নপত্র ফরম সংগ্রহ করলেন

189

স্টাফ রিপোর্টার : দলীয় প্রার্থীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় (৩/এ) থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ(সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের) করার মধ্যে দিয়ে।

মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরুর প্রথম দিন থেকেই দলীয় কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সেই ধারা চলামান রয়েছে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র কিনতে কার্যালয় ঘিরে হাজারো নেতাকর্মী ভিড় করছেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে স্লোগান দিয়ে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করছেন।

মনোনয়নপত্র ফরম বিক্রির ৩য় দিনে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বর ও সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্লা।

পাশাপাশি মনোনয়নপত্র ফরম ক্রয় করেছেন বর্তমান সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এমপি, ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (কাজী জাফর উল্লার চাচাত ভাই) কাজী হেদায়েত উল্লা সাক্লাইন, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন।

এছাড়াও আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র ফরম কিনেছেন, চরভদ্রাসন উজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মাষ্টার, সদরপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হারেজ মিয়া।

সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করছেন ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, বর্তমান সংসদ সদস্যর নেতাকর্মী, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত কারনে উল্লেখ্য, ভাঙ্গায় আওয়ামীলীগের ঘরোয়া কোন্দলের সূত্রতায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে কাজী হেদায়েত উল্লা সাক্লাইন, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমানকে জেলা কমিটি বহিস্কার ঘোষণা করার পর ভাঙ্গায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্য কাজী জাফর উল্লার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তারা জেলা কমিটির বহিস্কার ঘোষণা অবৈধ বলে দাবী করেন এবং বহিস্কারের একমাত্র এখতিয়ার দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং ও সাধারণ সম্পাদকের বলে দাবী করেন।

এদিকে দুই নেতাকে বহিস্কার ঘোষণার পর থেকে শক্ত হাতে কাজী জাফর উল্লা নিজের থেকেই ভাঙ্গায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার মনোনীত দুই নেতাকে সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন। তাদের নিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করলেও দলের একটি অংশ তার প্রতিপক্ষ হয়ে সাংসদ সদস্য নিক্সন এমপির সাথে প্রকাশ্য যোগ দেন।

বিশেষ করে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক কমিশনার ওমর আলী, আব্দুর রাজ্জাক ফকির, কমিশনার ওমর ফারুক হবি এবং সর্বশেষ গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাস আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়ায় কাজী জাফর উল্লাকে নিয়ে ভাঙ্গা ঈদগাও মাঠে সমাবেশ করার পরই নিক্সন শিবিরে যোগ দেন।

এতে সাধারণ নেতাকর্মীদের মনোবল অনেকটাই ভেঙ্গে পরতে শুরু করে। কিন্তু দলের এই দুঃসময়ে তৃণমূল এলাকার আওয়ামীলীগ পরিবারগুলো এসে দাড়ায় কাজী জাফর উল্লার পাশে। চলমান রাজনীতির ধারায় আওয়ামীলীগ বনাম বর্তমান এমপির জনসমর্থন ১৮বনাম ১৯শের জনপ্রিয়তার কোঠায় উঠে এসেছে বলে এমন অভিমত সাধারণ ভোটারদের।

পূর্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মোতাবেক জাতীয় নির্বাচনে ভাঙ্গার আসন আওয়ামীলীগের আসন বলে বিবেচিত। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আসনটি স্বতন্ত্র নেতা নিক্সন চৌধুরীর সমর্থনের কাছে নৌকা পরাজয়ের গ্লানি মুছাতে এবং যেকরেই হোক আসনটি পুন্রুদ্ধার করার লক্ষে নিরলসভাবে ভাঙ্গা সদরপুর ও চরভদ্রাসন এলাকার নৌকার নিবেদিত প্রাণগুলো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বর ও সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্লা। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আশাবাদ নৌকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মুখগুলো তাদের সুচিন্তিত রায়ের প্রতিফলন ঘটাবে।

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচন মূলত ভোট যুদ্ধ হবে নৌকা বনাম স্বতন্ত্র সাংসদ সদস্যর হাত ধরে তিন উপজেলায় উন্নয়নের রাজনীতির হিসেব নিকেশ সূত্রটায়। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বর। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোট নেওয়া হবে।

SHARE