রাজশাহীতে বখাটেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে পুলিশ

37

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীতে বখাটেদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। পাড়া¬-মহল্লার বখাটেদের ধরে ধরে থানায় নেয়া হচ্ছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। ছোট-খাট অপরাধে আটক করা হলে মুচলেকা আদায়ের পর অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হচ্ছে। আর গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, শনিবার সকাল থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত তাদের ১২ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪২ জন বখাটেকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুচলেকা নিয়ে ৩৪ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। আর বাকি আটজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার আরএমপির ১২ থানা পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের ৫৬ সদস্যকে আটক করে। এদের মধ্যে ৩২ জনের মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৪ জনকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার থেকেই নগরজুড়ে এ অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তারা পাড়া মহল্লার প্রভাবশালী, মাস্তান বা বড় ভাইদের হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একসাথে মাদকসেবন, নারীদের উত্ত্যাক্ত করাসহ ছোট ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি ও ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় খুন ধর্ষণের মত ঘটনাও ঘটছে। তাই আরএমপির কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের নির্দেশে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

সরেজমিনে বখাটেদের ব্যাপারে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশি। মোটরসাইকেলে তিনজন কিশোর দেখতে পেলেই পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিচ্ছে। যারা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তাদেরও ধরা হচ্ছে। এছাড়া দলবেঁধে পাড়ার মোড়ে আড্ডা বা ঘুরে বেড়ানো কিশোরদেরও আটক করা হচ্ছে। থানায় নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, পুলিশের কাছে পাড়া-মহল্লার বখাটেদের তালিকা রয়েছে। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ছোট-খাট অপরাধে জড়ালেও আটক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের একটা বড় অংশ মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী উঠে নগরীতে দাপিয়ে বেড়ায়। তাদের আটক করে থানায় নেয়া হচ্ছে। তারপর মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ কমাতে আরএমপির এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

SHARE