দুর্গাপুরে গ্রামীণ রাস্তা গিলছে পুকুর

31

অনলাইন ডেস্ক : পুকুর আছে, পাড় নাই। বছর না যেতেই কোটি টাকার রাস্তা ধ্বসে পড়ছে পুকুরের পানিতে। উপজেলায় বর্তমানে গ্রামীণ জনপদের রাস্তার ধারে গড়ে উঠা পুকুরগুলোর কারণে রাস্তার এরকম ভেঙে পড়ার চিত্র সবখানেই চোখে পড়ে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব রাস্তা বা সড়ক অল্প দিনের মধ্যেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে সরকারের প্রতিবছর রাস্তা মেরামতে কোটি কোটি টাকা জলে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা তৈরি করে। কিছুদিন না যেতেই এসব রাস্তা গিলে ফেলে পুকুরে। অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে একসময় পুরো রাস্তায় বিলীন হয়ে যায় পুকুরে। এতে পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বছরের পর বছর এসব ভাঙা রাস্তা আর মেরামত হয় না। পুুকুরধারে রাস্তা ভাঙনের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসনও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। ফলে অবাধে গড়ে উঠা পাড় বিহীন পুকুরগুলোর কারণে একদিকে জনদুর্ভোগ বাড়ে অন্যদিকে সরকারের অপচয় হয় কোটি কোটি টাকা।

দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, বিগত জেলা প্রশাসক নিদের্শ দিয়ে ছিলেন রাস্তার ধারের পুকুর মালিকদের নিজ উদ্দ্যোগে (প্যালাসাইডিং বা রিটানিং) প্রটেকশন ওয়াল তৈরি করতে হবে। এবং রাস্তার ধারে পাড় ব্যতীত পুকুর খনন করা যাবে না। জেলা প্রশাসকের নিদের্শক্রমে উপজেলায় মাইকিংও করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। পৌরসভা ও ইউনিয়ন মিলে রয়েছে ১২৪টি গ্রাম। প্রত্যেকটি গ্রামীণ এলাকায় রাস্তার ধারে রয়েছে অসংখ্য পুকুর। ছোট বড় পুকুর মিলে রাস্তাকে পাড় হিসেবে ব্যবহার করে পুুকর খনন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুকুর মালিকরা রাস্তা বা রাস্তাটি পুকুর পাড় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বছরের পর বছর মাছ চাষ করার কারনে পুকুর পাড় হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি রাস্তা গুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তা গুলো অতি অল্প সময়ে ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, আমরা সরকারী টাকায় রাস্তা গুলো তৈরি করি। অথচ সেই রাস্তা কিছু দিন না যেতেই পুকুরে ধসে পড়ে। রাস্তার ধারে পাড় বিহীন পুকুর বিষয়ে উপজেলা মাসিক মিটিংয়ে আমি একাধিকবার কথা বলেছি। এছাড়াও পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। তবে শীঘ্রই জেলা প্রসাশক, উপজেলা নিবার্হী কমকর্তা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে লিখিত ভাবে জানানো হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসীন মৃধা বলেন, পুুকুর মালিকরা সরকারি রাস্তাকে পাড় হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে ভাল রাস্তা বা সড়ক অতিদ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইন খতিয়ে দেখে ওইসব সরকারি রাস্তাকে পাড় হিসেবে ব্যবহার করা পুকুর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

SHARE