বাগমারায় বন্যায় ডুবছে কাঁচা-পাকা সড়ক

50

স্টাফ রিপোর্টার ,বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। বাগমারার ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ধ্বসে গেছে ৫ শতাধিক বাড়িঘর।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যার পানিতে গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার সদর ভবানীগঞ্জ পৌরসভাসহ ৩৫টি গ্রামের সবগুলোই এখন বন্যার পানিতে ভাসছে। অন্তত ৫ শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর ধ্বসে পড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে এলাকার লোকজন। কাঁচা পাকা সড়ক ডুবে গেছে পানিতে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে গ্রামবাসীরা।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৩টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে কম বেশী ভাসলেও সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভবানীগঞ্জ পৌরসভা বড়বিহানালী, দ্বীপপুর, কাচারী কোয়ালীপাড়া ও ঝিকরা ইউনিয়ন। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। ইউনিয়নগুলোতে বন্যার পানি ঢোকার কারণে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি হুমকির মাঝে রয়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গাতে। কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যায় কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্লাবিত হয়েছে।

কাচারী কোয়ালীপাড়া, সোনাডাঙ্গা, গোবিন্দপাড়া, দ্বীপপুর, বড়বিহানালী, ঝিকরা, যোগীপাড়া, গনিপুর, বাসুপাড়া শুভডাঙ্গা, যোগীপাড়া ইউনিয়ন ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় নতুন ভাবে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে রান্নার জায়গা না থাকায় অনেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

এবারের বন্যায় কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেননি উপজেলা প্রশাসন। তবে দুই এক দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

বন্যায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার মধ্যে ১৩ টি ইউনিয়নের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ধান পানির নীচে ডুবে গেছে। এছাড়াও পুকুর ও বিলের চাষ করা কয়েক হাজার কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানবরজ ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

এলাকার বানভাসীদের অভিযোগ, বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার পরেও উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের খোঁজখবর নেয়নি। তারা রান্নার অভাবে অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ জানান, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য স্ব স্ব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যেই ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

SHARE