বানেশ্বরে হোটেল সুরমা থেকে অসামাজিক কাজে জড়িতের অভিযোগে চার নারী গ্রেফতার

57

স্টাফ রিপোর্টার ,পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর আবাসিক হোটেল সুরমায় অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে হোটেলে থাকা ৪ জন নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  পরে তাদের বিরুদ্ধে থানায় ২৯৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতেও প্রেরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে উপজেলার বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত হোটেল সুরমায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল ম্যানেজার ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, নাটোর সদর এলাকার সুমি খাতুন (২৫), কুতুবদিয়া কক্সবাজার এলাকার তসলিমা আক্তার (২৬), নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকার জহিরুন খাতুন (২৭) ও বগুড়া জেলার ধনুট চকবাড়ি এলাকার জেসমিন খাতুন (২৫)।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রেজাউল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স উপজেলার বানেশ্বর ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন মনি মার্কেটের দোতালায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল সুরমায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে চারজন যৌনকর্মীকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মচারীরা পালিয়ে গেছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে থানায় ২৯৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় তাদের সন্ধ্যার সময় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলের আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ^র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাপারীরা ভীড় জমান হাটে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করেন এখানকার আবাসিক হোটেল সুরমাতে। এখানকার হোটেল সুরমাতে জমে উঠেঠে অবৈধ কারবার। অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে দেহ ব্যবসা ও মাদক সেবন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় হোটেল সুরমাতে অভিযান চালিয়েও এই কারবার বন্ধ করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। কেউ কেউ এ ঘটনায় পুলিশের সাঁয় আছে বলেও অভিযোগ করেন। জানা গেছে, বানেশরের হোটেল সুরমা নানান কৌশলে দেহব্যবসা ও মাদক সেবন চলছে। মাদকের জোগান আসছে পাশের উপজেলা ও সীমান্তবতী চারঘাটের মাদক ব্যবসায়ীদের হাতঘুরে।

এ হোটেলের নিয়মিত খদ্দের উঠতি যুবকরা। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সুন্দরী নারীরা নিয়মিত এদের শয্যাসঙ্গিনী হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোন রাখঢাক ছাড়াই দেহব্যবসা ও মাদক সেবন চালাচ্ছে হোটেল হোটেল সুরমা। এতে বিপথগামী হচ্ছে এখানকার উঠতি তরুণ ও যুবক সমাজ। মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালিয়েও এই কারবার বন্ধ করতে পারেনি।

এতে থানা পুলিশ ও কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালীর সম্পৃক্তার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তবে এলাকার শৃংখলা ফেরাতে এই কারবার চিরতরে বন্ধ চান তারা।

এদিকে, হোটেল সুরমাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কয়েকজন কর্মী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, হোটেলগুলো থেকে পুলিশের কতিপয় সদস্য নিয়মিত অর্থ নেন।

অভিযানের খবর আগেভাগে তারাই হোটেল মালিককে দেন। ফলে সুযোগ বুঝে কেটে পড়েন অভিযুক্তরা।

বিষয়টি স্বীকারও করেন পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) । তিনি বলেন, আগে বেপরোয়া অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতো হোটেল সুরমা। তবে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালানোর ফলে কিছুটা কমেছে।

SHARE