সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করলেন মেয়র লিটন

39

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাকালিন পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিভাগের সাংবাদিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সহায়তার চেক বিতরণ করেন, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের ভালোবাসতেন। পারিবারিকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সাংবাদিকদের ভালোবাসেন। এজন্য বর্তমান সরকার সাংবাদিকবান্ধব সরকার। করোনাকালীন সারাদেশের সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি ভালোবাসার একটি দৃষ্টান্ত।
মেয়র আরো বলেন, এখন বাংলাদেশের সর্বত্রই দৃশ্যমান উন্নয়ন হচ্ছে। সাংবাদিকরা তাদের লিখনির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন-সবাই সেটাই প্রত্যাশা করেন।
জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট রাজশাহীর সভাপতি আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, পিআইবির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদ এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কল্যাণেও কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে কোনো কাজ করে না। সরকার যে ভালো কাজ করছে, তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, করোনাকালীন সারা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এটি শুধু টাকা নয়, এটি হচ্ছে সাহস। করোনা মহামারিতে সাংবাদিকদের পাশে আছে সরকার।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক সমাজ এবং উন্নয়ন এই চারটি বিষয়ে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ থাকার সুযোগ নেই। এখানে কোনো আপোস চলে না। এই চার বিষয়ে একনিষ্ঠ থাকতে হবে।
রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নের প্রশংসা করে সাংবাদিক নেতা মোল্লা জালাল বলেন, ২০১০ সালের পূর্বে রাজশাহীর রাস্তাঘাট ছিল ভাঙাচোরা, শহর ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। আজ বিমানবন্দর থেকে আসার সময় মনে হলো, এটি বাংলাদেশ নয়, আমি যেন সিঙ্গাপুরে আছি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালিন সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম ও আকবারুল হাসান মিল্লাত এবং রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ২০০ সাংবাদিকের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক রাশেদ রিপন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, করোনাকালে এই উপমহাদেশে একমাত্র বাংলাদেশ সরকার সরাসরি সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশের মূলধারার সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং উন্নয়ন এই চার বিষয় মাথায় রেখে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। দেশের দুর্নম বা অবহেলা মায়ের দুর্নাম বা অবহেলার সামিল। অনেকেই করোনাকালীন সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যেনো পরবর্তিতে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সহায়তার জন্য না আসে। প্রত্যাখ্যানকারী এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, এই অনুদান সরকার তার সামর্থ অনুযায়ী দিয়েছে। এটা সাংবাদিকদের একটা স্বীকৃতি। এটা প্রত্যাখ্যান ধৃষ্টতার সামিল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশে সাংবাদিকতার নামে অনেকে দেশ বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। চীনপন্থী অনেক রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। তাদের পত্রিকাতে সাংবাদিকতার নামে কি কায়দায় গেরিলা আক্রমন করা যাবে, সে বিষয়ে লেখালেখি করা হয়েছে। সেই মতাদর্শের অনুসারীরা এখনো সক্রিয়। তাদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনাকালে সাংবাদিকতা বিষয়ে বৃহত্তর রাজশাহীর সাংবাদিকেদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

SHARE