রাস্তার জন্য গাছ কাটার সিদ্ধান্ত

152

মাওনা-ফুলবাড়িয়া-কালিয়াকৈর-ধামরাই-নবীনগরকে যুক্ত করেছে যে সড়কটি, সেটি প্রশস্ত করার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিরি সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫২ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্ত করতে খরচ ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি টাকা। এই সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার অংশে বন বিভাগের জমি রয়েছে। এই সড়কের ধারে রয়েছে প্রায় সাত হাজার শালগাছ। সড়ক প্রশস্ত করতে গেলে এসব গাছ কাঁটা পড়বে। সাত হাজার গাছ কাঁটা পড়লে সেখানকার বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে। এমনিতেই বন বিভাগের জমি অবৈধভাবে অনেকে দখল করে আছে। গাছ কেটে রাস্তা প্রশস্ত করলে দখলদারি বাড়বে। পুরো ভাওয়ালগড়ের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে বন বিভাগের আশঙ্কা। আর সে কারণেই গাছ কাটায় আপত্তি জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সড়কটি প্রশস্ত করা তেমন জরুরি নয়। বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বন বিভাগ। অন্যদিকে এই প্রকল্প অনুমোদনের সময় বলা হয়েছিল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা এলাকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সড়কটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সড়কটি প্রশস্ত করা হলে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে। আবার বনের কোনো জমি নিতে চাইলে কিংবা গাছ কাটার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়েই রাস্তা প্রশস্ত করার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভাওয়ালগড়কে ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও এখানে জমি দখল থেমে নেই। একসময় এই বনে চিতা, ময়ূর ও হাতি ছিল বলে শোনা যায়। বন উজাড় হতে হতে অনেক বন্য প্রাণীই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শুধু ভাওয়ালগড় নয়, দেশের অনেক এলাকা থেকেই উজাড় হয়েছে বন। বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক বন্য প্রাণী। বনাঞ্চলে গড়ে উঠেছে জনপদ। বনের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হচ্ছে। গড়ে তোলা হচ্ছে নানা ধরনের শিল্প-কারখানা, যা বনের পরিবেশ নষ্ট করছে। নষ্ট হচ্ছে জাতীয় সম্পদ।
বিদেশে যেখানে পরিবেশ রক্ষা করতে গিয়ে লাভজনক বড় বড় শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেখানে আমাদের দেশে বাণিজ্যিক কারণে বন উজাড় করার উদাহরণ সৃষ্টি হয়। আমরা আশা করব, প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে বনের বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখা হবে। যেমনটি হয়েছিল যশোর-বেনাপোল সড়ক প্রশস্ত করার সময়। বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল প্রাচীন গাছ। এ ক্ষেত্রেও সেভাবে ভেবে দেখা যেতে পারে।

SHARE