চলে গেলেন প্রণব মুখার্জি

52

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের সাবেক রাষ্ট্রনায়ক, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জি আর নেই। তিন সপ্তাহ দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল সোমবার বিকেলে মৃত্যু হয় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের। তিনি ছিলেন দেশটির প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সংকটে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারতের পাশাপাশি উপমহাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারত সরকার সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে তার প্রতি বিরল শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটে বলেছেন, ভারতরত্ন প্রণব মুখার্জির প্রয়াণে ভারত আজ শোকগ্রস্ত। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সর্বজনশ্রদ্ধেয় এ রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা প্রণব মুখার্জিকে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ও পরম সুহৃদ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে বাংলাদেশ। এদিন দেশের সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

গতকাল বিকেলে প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি টুইট করে তার বাবার মৃত্যুর খবর জানান। গত ৯ আগস্ট রাতে দিল্লির নিজ বাসভবনে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। পরদিন সকাল থেকে তার স্নায়ুঘটিত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। বাঁ হাত নড়াচড়া করতে সমস্যা হচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, তার মাথার ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ১৩ আগস্ট থেকে তিনি গভীর কোমায় চলে যান।

প্রণব মুখার্জি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন। ১০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তির পর ধরা পড়ে তিনি করোনাভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছেন। সে অবস্থাতেই ওই দিন রাতে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার হয়। তার পর থেকে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের আগে নিজের করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর টুইট করে জানিয়েছিলেন তিনিই। সেটাই ছিল প্রণব মুখার্জির শেষ টুইট।

পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কংগ্রেসে কাটানো প্রণবের পদধূলি নেওয়ার ছবি শেয়ার করে বিপরীত রাজনৈতিক দর্শনের দল বিজেপির নেতা মোদি লিখেছেন, ‘দেশের উন্নয়নের গতিপ্রকৃতিতে তিনি এক অবিস্মরণীয় ছাপ রেখে গেছেন। একজন অসাধারণ পি ত, এক গৌরবময় রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতির সব মহল আর সমাজের সব শ্রেণিতে তিনি শ্রদ্ধা পেয়েছেন।’

একাত্তরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার সদস্য থাকাকালে তখনকার কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখার্জি যেমন মুক্তিকামী বাঙালির পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনি তিনি বন্ধু ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েও। তার স্ত্রী রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইলের মেয়ে।

প্রণব-শুভ্রা দম্পতির দুই ছেলে ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি ও অভিজিৎ মুখার্জি ছাড়াও একমাত্র মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি পশ্চিমবঙ্গের জাঙ্গিপুর আসন থেকে দু’বার কংগ্রেসের মনোনয়নে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া শর্মিষ্ঠা একজন কত্থক নৃত্যশিল্পী। কংগ্রেসের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন তিনিও। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধু হিসেবে ২০১৩ সালের ৪ মার্চ প্রণবের হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তখনকার রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক শোকবার্তায় বলেছেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যু ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রণব মুখার্জি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত তৈরিতে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শোকে আপ্লুত ও স্মৃতিকাতর হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও শেখ হাসিনার নিজের বহু স্মৃতি প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখার্জির অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সব সময় মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখার্জি আমাদের সব সময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজ-খবর রাখতেন, যে কোনো প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশে ফেরার পরও প্রণব মুখার্জি সহযোগিতা এবং উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু। যে কোনো সংকটে তিনি সাহস জুগিয়েছেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারত হারাল একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে আর বাংলাদেশ হারাল একজন আপনজনকে। তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কণ্টকাকীর্ণ পথ ধরে ক্ষমতার চূড়ায় :স্বাধীনতার পর যেসব বাঙালি নেতা-নেত্রী দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন, তাদের মধ্যে সফলতম এবং উজ্জ্বলতম নাম প্রণব মুখার্জি। ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রণবের ভূমিকায় ইতি পড়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের রাজনীতির সংকটের নানা মুহূর্তে বারবারই তার অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ চলে এসেছে আলোচনায়। এটা প্রমাণ করে, তার সাফল্য সংকীর্ণ বাঙালি পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে আসলে আরও কতদূর বিস্তৃত হতে পেরেছিল।

১৯৩৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বীরভূম জেলার কীর্ণাহারের অদূরের মিরিটি গ্রামে প্রণব মুখার্জির জন্ম। বাবা কামদাকিঙ্কর ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতা-সংগ্রামী এবং কংগ্রেস নেতা। জেলা কংগ্রেস সভাপতি, এআইসিসি সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদেরও সদস্য হয়েছিলেন তিনি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে রাজনীতি তার উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া। ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পর্বের পরে মন দিয়েছিলেন আইনের ডিগ্রি পাওয়ায়। তবে আইনজীবীর পোশাকে তাকে কখনোই দেখা যায়নি। ডাক ও তার বিভাগে করণিক এবং হাওড়ার বাঁকড়া স্কুলে শিক্ষকতার পর ১৯৬৩ সালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আমতলার অদূরে বিদ্যানগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে বিদ্যানগর কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ মজুমদারের হাত ধরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সফর প্রণবকে টেনে নিয়ে যায় অনেক দূরের অন্য ঠিকানায়।

সংসদীয় রাজনীতির ইনিংস শুরু করার পরই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নজরে পড়েন প্রণব। তারপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৭১ সালে প্যারিসে ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভায় যে ভারতীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের স্বাধীনতার হয়ে সওয়াল করেছিল, ৩৬ বছরের প্রণব সেই দলেও ছিলেন।

১৯৭৫ সালে কংগ্রেসের টিকিটে দ্বিতীয়বার রাজ্যসভার সদস্য হন প্রণব মুখার্জি। এর আগে ১৯৭৩ সালে শিল্প প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। ১৯৮০ সালের লোকসভা ভোটে দেশজুড়ে প্রবল ইন্দিরা হাওয়ার মধ্যেও বোলপুর কেন্দ্রে সিপিএমের কাছে হেরেছিলেন তিনি। তবে ১৯৮২ সালে ফের তার উত্থান হয়। এবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রণব হলেন ইন্দিরা ক্যাবিনেটের ‘নাম্বার টু’। প্রণবের সময়ই রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মনমোহন সিংহ।

ইন্দিরা নিহত হওয়ার পর দ্রুত কংগ্রেসের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন প্রণব। রাজীব গান্ধীর জমানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করে পাঠানো হয় তাকে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই হাইকমান্ডের সঙ্গে সংঘাতের জেরে দল থেকে বহিস্কৃত হন। রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে নতুন দল গড়ে ১৯৮৭ সালের বিধানসভা ভোটে বহু আসনে প্রার্থী দাঁড় করেছিলেন প্রণব। তাদের একজনও জিততে পারেননি।

পি ভি নরসিংহ রাওয়ের জমানায় প্রথমে যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রণবকে। অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংহের আর্থিক সংস্কার নীতি রূপায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। দু’বছর পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে প্রণবকে ক্যাবিনেটে ফিরিয়েছিলেন রাও। ১৯৯৫ সালে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্বও দিয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ২৩২ থেকে নেমে এসেছিল ১৪০-এ। ভোটে ভরাডুবির দায় নিয়ে নরসিংহ রাও কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রণবের নাম উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাপতি হয়েছিলেন সীতারাম কেসরি। ২০০৪ সালে লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বিরুদ্ধে রাজ্যওয়ারি পাল্টা নির্বাচনী সমঝোতা গড়ার মূল কারিগর ছিলেন প্রণব। ভোটে অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকারের পতনের পর কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয় ইউপিএ জোটের। আর সেই ভোট প্রণবের জীবনেও এনেছিল নতুন হাওয়া। অধীর চৌধুরীর ‘আমন্ত্রণে’ মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে সেই প্রথমবার জনতার ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হন তিনি।

২০০৪ সালের নির্বাচনের পর সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণে অপারগতার কথা জানানোর পর আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণের নাম। কিন্তু কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় ‘অরাজনৈতিক’ মনমোহনকে। দুই দশক পর ফের প্রণব ফিরে যান তার ‘নাম্বার টু’ আসনে। ইউপিএর দুটি মেয়াদে প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নানা গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব, এমনকি ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি রূপায়ণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর সক্রিয় রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রণব। ২০০৮ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ ছাড়াও ২০১৯ সালে পেয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন। এ ছাড়া আইভরি কোস্ট ও সাইপ্রাস থেকেও সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি পাওয়ার পাশাপাশি প্রণব মুখার্জি ভারতীয় অর্থনীতি ও দেশ গঠন ইস্যুতে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন।

বাংলাদেশের সুহৃদ :বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জি। ওই সময়ে রাজ্যসভার তরুণ সদস্য হিসেবে ভারত সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের স্বীকৃতি আদায়ে সরব হয়ে ওঠেন তিনি। আর সে কারণেই তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। নিজের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড :দ্য ইন্দিরা গান্ধী ইয়ারস’র একটি অধ্যায়ে এ কথা নিজেই জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, এর পরই তাকে একের পর এক দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে বিভিন্ন দেশ সফরে পাঠান ইন্দিরা। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে অকৃত্রিম বাঁধনে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

অবশ্য ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশেরই এক মেয়েকে। ১০ বছর বয়সে নড়াইলের ভদ্রবিলা থেকে পরিবারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী হওয়া শুভ্রা মুখার্জির সঙ্গে ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথমবারের মতো ভদ্রবিলায় শ্বশুরবাড়ি ঘুরেও যান তিনি। ওই সময়ে অসুস্থতা সত্ত্বেও হুইলচেয়ারে চড়ে নিজের জন্মভিটায় ঘুরে যান শুভ্রা মুখার্জি। স্বামীর সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ বিদেশ সফর। এর দুই বছরের মাথায় ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ৭৪ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান শুভ্রা। তার হাত ধরেই ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশ করেছিল সন্দেশের মতো বাঙালি মিষ্টি খাবার।

আরও শোক : প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার প্রমুখ। এ ছাড়া প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএনপি। গতকাল দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, পৃথিবী থেকে তার এই বিদায় গভীর দুঃখ ও বেদনার। তার মৃত্যুতে ভারতবাসীর মতো বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপি সমানভাবে সমব্যথী।-সমকাল

SHARE