নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আজ

176

গণধ্বনি ডেস্ক : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবারই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে ইসির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। পরে বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি। ওই ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে একযোগে সিইসির ভাষণ সম্প্রচার করা হবে।
এরআগে সিইসি জোট নেতাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপনারা জানেন আমরা এর আগেও সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের সবার প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি, বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এখানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপস্থিত আছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জন্য আশা করি ফলপ্রসূ আলোচনা হবে। এরপর সচিব সবাইকে তার পরিচিতি দিয়ে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানান। সভা শেষে জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৮ নভেম্বরেই তফসিল চায় জাতীয় পার্টি। সংলাপের অজুহাতে তফসিল পেছানোর কোনো মানে হয় না। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে চাই। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়ে রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এখনো বাংলাদেশের মানুষ ইভিএম ব্যবহারে অভ্যস্ত নয়। তাই আমরা সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার পক্ষে। এ ছাড়া নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব রোধের বিষয়ে দাবি জানিয়েছি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন যেন স্বাধীন ও নিপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে সে কথাও বলেছি। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ সাত্তার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুর হক চুন্নু, জাতীয় ইসলামি মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক ও বিএনএ চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মনি। এ ছাড়া চার নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ৮ নভেম্বর তফসিল দিয়ে ২০ ডিসেম্বরের দিকে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে গত ৫ নভেম্বর প্রথম ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দিন ৬ নভেম্বর যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করে সংস্থাটি। ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের ফলাফল জেনে তফসিল ঘোষণা, ইভিএম ব্যবহারে সিরিয়াস না হতে বলেছে ইসিকে। আর যুক্তফ্রন্ট দাবি করেছে, সংলাপের কারণে যেন তফসিল না পেছানো হয়। এ রাজনৈতিক জোটও ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দেয় ইসিকে।
এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গত সোমবার ইসির সঙ্গে বৈঠকে সরকারের সঙ্গে চলমান সংলাপের ফলাফল দেখে তফসিল ঘোষণার দাবি জানায় তারা। সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করা হলে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে বলেও জানায় ঐক্যফ্রন্ট।

SHARE