বাঘায় লীলা কীর্তনের আসর

483

স্টাফ রিপোর্টার ,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় রাধা-গোবিন্দের পদাবলী লীলা কীর্তন পরিবেশন করে আসর মাতিয়ে তুললেন সুদুর বগুড়া থেকে আগত কীর্তন শিল্পী শ্রীমতি সুজাতা মোহন্ত। সুরের মূর্ছনায় আর তত্ত্ব ভিক্তিক গানের সমারহে উপস্থিত দর্শকদের প্রাণবন্ত করে তোলেন এই কীর্ত্তনীয়া শিল্পী। যার কন্ঠে পরিবেশিত পদাবলীতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শ্রীরামপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দির মুখরিত হয়ে উঠে। এখানে ১৬ প্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী রাধা-গোবিন্দের লীলা কীর্তন অনুষ্ঠানে বগুড়ার ব্রজগোপী সম্প্রদায় শিল্পী গোষ্ঠীর হয়ে এই কীর্তন পরিবেশন করেন।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীরামপাড়া গ্রামে গিয়ে শ্রীমতি সুজাতা মোহন্ত’র কন্ঠে পদাবলী শোনার পর তার সাথে একান্ত আলাপ চারিতায় জানা যায় তার পরিচয় ও সঙ্গীতাজ্ঞনের বিভিন্ন ধরনের ইতিকথা। তিনি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের শিবপুর গ্রামের এক মধ্যবৃত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শ্রীকান্ত গোস্বামী। তিনিও একজন সঙ্গীত ওস্তাদ ও কীর্তন শিল্পী। শিশুকাল থেকেই তিনার বাবার কাছেই সঙ্গীত শিখেছেন এবং কীর্তনে তালিম নিয়েছেন। প্রাপ্ত বয়সে তার বিয়ে হয় তার বাবার আরেক শিষ্যু বগুড়া আদমদিঘি গ্রামের শ্রী সঞ্জয় স্বর্ণকারের সাথে। সেও একজন দক্ষ তবলা/নাল বাদক। কীর্তনেও রয়েছে পারদর্শীতা। পেশায় স্বর্ণকার হলেও বর্তমানে ব্রজগোপী সম্প্রদায়ের পরিচালক হিসেবে সঙ্গীত নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

কীর্ত্তনীয়া শ্রীমতি সুজতা মোহন্ত জানান, পদাবলী কীর্তন পরিবেশন করে দর্শককে কতটা আনন্দ দিতে পারি তা জানিনা। তবে বর্তমানে দেশের সকল জেলা উপজেলা থেকেই আমন্ত্রন পেয়ে থাকি পদাবলী কীর্তন পরিবেশনের জন্য। বিভিন্ন মঞ্চে কীর্তন পরিবেশন করে নির্ধারিত বাইনার টাকা ছাড়াও নগদ অর্থ ও স্বর্ণের মালাও পুরস্কার পেয়েছেন। তিনার জন্মদাতা ও সঙ্গীত ওস্তাদসহ দেশের অসংখ্য দর্শক ভক্তদের আর্শীবাদ পেয়েছে বলে জানান তিনি।

কীর্ত্তনীয়া শ্রীমতি সুজতা মোহন্ত’র স্বামী ও ব্রজগোপী সম্প্রদায়ের পরিচালক সঞ্জয় স্বর্ণকার জানান, তিনি পেশায় একজন স্বর্ণকার। কিন্তু তার আর স্বর্ণের কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। সুজতা মোহন্ত’র সাথে বিয়ের পর সারাদেশব্যপী কীর্তন পরিবেশানায় ব্যস্ত থাকেন তারা।

SHARE