ইলিশ প্রজনন নিশ্চিতকরণ

292

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। বাঙালিদের কাছে খুব প্রিয় সামুদ্রিক এই মাছ ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে প্রবেশ করে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মম-লীয় মাছ ইলিশ বঙ্গোপসাগরের বদ্বীপাঞ্চল, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর মোহনা থেকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে ধরা হয়। বাংলাদেশের মৎস্য খাতে একক প্রজাতি হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্যসম্পদ নবায়নযোগ্য এবং দেশজ মাছ উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ। জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। শুধু উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণ, স্থানীয় বাজারজাতকরণ ও পরিবহনের কাজে সরাসরি নিয়োজিত। অর্থাৎ জেলে সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের জীবিকা নির্বাহ হয় ইলিশ শিকারের মাধ্যমে।
ইলিশ শুধু পূর্ণিমাতেই প্রজনন করবেÑএমন চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে আগে ১০-১১ দিন ইলিশ ধরা নিষেধ ছিল। ২০১৫ সালের পর এ মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ দিন করা হয়। হিসাবটা এ রকমÑআশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে তিন দিন, পূর্ণিমার দিন এবং পূর্ণিমার পরে ১১ দিনসহ মোট ১৫ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকত। দু-তিন বছর ধরে ইলিশ সংরক্ষণ সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে আশ্বিন মাসের প্রথম পূর্ণিমার আগের চার দিন, পূর্ণিমার দিন এবং পূর্ণিমার পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সুফল মিলেছে বেশ। ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। গত অর্থবছরে মোট ইলিশ উৎপাদন ছিল চার লাখ ৯৬ হাজার টন। চলতি অর্থবছরে সাড়ে পাঁচ লাখ টনের কিছু বেশি ইলিশ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ সময়ে জেলেদের হাতে কোনো কাজ থাকে না। ফলে অনেকেই রাতের অন্ধকারে চুরি করে ইলিশ শিকারে যায়। আবার সচেতনতার অভাবেও অনেকে গোপনে মাছ ধরে বিক্রি করে থাকে। কালের কণ্ঠ’র ‘নিষিদ্ধ ইলিশ’ শীর্ষক পূর্ণ পৃষ্ঠার আয়োজনে এ বিষয়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আমাদের জাতীয় সম্পদ ইলিশ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। দেখা যায়, ইলিশ শিকার বন্ধ থাকার সময় অনেক জেলেই দাদন নিয়ে সংসার নির্বাহ করে। এটা যাতে না হয় সে জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে নিবন্ধিত জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলেদের এই সময়ে ইলিশ অঞ্চল বাদে অন্যত্র অন্য সামুদ্রিক মাছ ধরার প্রণোদনা দেওয়া যায়। সস্তায় মাছ ও পরিবেশবান্ধব জাল এবং সমুদ্রে মাছ ধরার উপযোগী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। জেলেদের কিভাবে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা যায় সে বিষয়টিও ভাবা যেতে পারে।

SHARE