রাজশাহীতে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া

147

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে বাড়ছে শিশুদের নিউমোনিয়া। শীতকে সামনে রেখে শিশুদের সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ার রোগের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে অভিভাবকদের একটু অসচেতনতায় শিশুদের স্বাস্থ্য-পরিস্থিত জটিল আকার ধারণ করে। দেখা যায়, সময় মতো শিশুর চিকিৎসা না করাতে পারলে অনেক শিশু নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়। অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে শেষ পর্যন্ত শিশু মারা যেতে পারে।
এমনটাই জানাচ্ছিলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা জানান, ‘রামেক হাসপাতালে ১০- ১২ দিন থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে, শীত আসছে। তাপমাত্রা ওঠানামা করছে, এই পরিস্থিতি শিশুদের জন্য নিউমোনিয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। অভিভাবকরা একটু অসচেতন থাকলেই শিশুর ঠান্ডা লাগছে এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে’।
এদিকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিশুর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বে-সরকারি হাসপাতালগুলোরও হিসেব নেই তাদের কাছে। চিকিৎসকরা জানান,‘যেকোনো বয়সের মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক হয়। একটু অসচেতন হলেই শিশুর বিপদ হতে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ছানাউল হক মিঞা জানান, ‘শীতের আগেই শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এ সময় অভিভাবকদের বলা হয় শিশুর প্রাথমিক ডাক্তার। চিকিৎসার প্রথম অবস্থায় তাদের কাছ থেকেই আমরা বাচ্চাদের রোগের সম্পের্কে প্রায় অর্ধেক তথ্য নিই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করি। অভিভাবকদের সতর্কতাই শিশুদের জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।’ রামেকের এই বিশেষজ্ঞ আরো জানান, ‘শীতে বাচ্চাদের শ্বাসকষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ হলো নিউমোনিয়া। আর নিউমোনিয়া হতে পারে বেশ কয়েকটি কারণে। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারণে নিউমোনিয়ার সৃষ্টি হয়। তাই এ সময় বাচ্চাকে ঠান্ডায় রাখা যাবে না। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সব সময় মায়ের বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। শিশুদের বেশি করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। ভোর বেলা বা কুয়াশার সময় বাচ্চাকে বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না। বাসাবাড়ি ধুলোবালি মুক্ত রাখতে হবে। এ সময় শিশুদের হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে এবং বাচ্চার আশেপাশে কোনোমতেও ধূমপান করা যাবে না। শিশু কোনো কারণে অসুস্থ মনে হলে দেরি না করে তাড়াতাড়ি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

SHARE