জাতির সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় নগরীতে বড়দিন উদযাপন

154

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় দেশের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্যে দিয়ে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) উদযাপন করা হয়েছে বড়দিন। দিবসটি উপলক্ষে শহরজুড়ে নানান আয়োজন। গতকাল বুধবার নগরীর চার্চগুলোতে করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। এর আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা বড়দিনের উৎসবে মেতে উঠেন। আর রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রার্থনা। খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তন গেয়ে বড়দিনের আগমনী বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন। এরপর সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে বড়দিনের প্রার্থনা।
এর আগে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় ‘ঊর্ধ্বলোকে ঈশ্বরের মহিমা এবং পৃথিবীতে তাহার প্রিয়পাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি।’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহী সিটি চার্চে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ সময় চার্চের মধ্যে সবাই গেয়ে উঠেন। বড়দিন উপলক্ষে রাজশাহীর খ্রিস্টান সম্প্রদায় বেথলহেমের সেই আবহ সৃষ্টি করতে তাদের বাড়িতে তৈরি করেছেন প্রতীকী গোশালা।
নগরীর বাগানপাড়া চার্চের ফাদার পল গোমেজ জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয় নগরীর দ্বিতীয় বড় উপাসনালয় বাগানপাড়া চার্চেও। বিশেষ উপাসনা শেষে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতিভোজ। এছাড়া ডিঙ্গাডোবা চার্চসহ নগরীর অন্যান্য উপাসনালয়ে রাতে যিশু খ্রিস্টকে স্মরণ করে প্রার্থনা করা হয়। এতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

এদিকে, গির্জা ও হোটেলেগুলো বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জায় সেজেছে। গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন করে। গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলোতে টুকটুকে লাল পোশাক পরা সফেদ দাড়ি-গোঁফের বুড়ো সান্তাক্লজ উপহারের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ছোট্ট সোনামণিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মজার মজার উপহার। গতকাল রাজশাহীর ক্যথলিক গির্জার প্রধান বিশপ জার্ভাস রোজারিও বলেন, বড়দিন মানেই শান্তির উৎসব। বড়ই আনন্দের দিন। আজকের দিনে যীশু খ্রিস্ট জন্ম নিয়েছিলেন। ঠিক জন্মের পরই রাজা হেরজ তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। এটাই সন্ত্রাসবাদের একটি উদাহরণ বলা যেতে পারে। এ কারণে শিশু যীশুকে বেথলহেম ছেড়ে অভিবাসনে যেতে হয়েছিল। তাই আমরা আজ অভিবাসীদের কথা স্মরণ করছি এবং তাদের নিরপত্তার বিষয়ে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ অভিবাসীরা আমাদের অতিথি আর সব ধর্মেই অতিথিদের বরণ করে নিতে বলা আছে। এ বছর এটাই আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি বলেন, যীশু খ্রিস্ট জন্মের পরেই হুমকির মুখে পড়েছিলেন। এমন হুমকি বর্তমানে আমাদের মধ্যে আছে। মানুষের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিচ্ছে। যার যার ধর্ম সে যেন নিরাপত্তার সাথে পালন করতে পারে সে অধিকার সবার আছে। সে সুযোগ যেন থাকে। কিন্ত ধর্ম নিয়ে যেন একে অপরের মধ্যে হানাহানি, হত্যাকাণ্ড না হয়। কিন্তু ভারতের বর্তমান সরকার যা শুরু করেছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং এটি মোটেও কাম্য নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ আর ক্ষমতার হাসিল করতেই মোদি ধর্মীয় অশান্তি বাঁধিয়েছেন। আমরা চাই ধর্ম নিয়ে বিড়ম্বনা না করে ভারত সরকার যেন শান্তিপুূর্ণভাবে সকল ধর্ম পালন করার সুযোগ দেয়।
নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, দিনটি উদযাপনের লক্ষ্যে চার্চগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে সবাই বড়দিন উদযাপন করছেন। সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বড়দিন উপলক্ষে এরই মধ্যে নগরীর অভিজাত হোটেলগুলোতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। বড়দিনে প্রতিটি গির্জায় করা হচ্ছে বিশেষ প্রার্থনা। বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ সজ্জায় সেজেছে রাজশাহীর গির্জা ও হোটেলগুলো। গোশালা স্থাপন, রঙিন কাগজ, ফুল ও আলোর বিন্দু দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন করে রাখা হয়।

SHARE