শীতে রাবিতে অতিথি পাখি

96

রাবি প্রতিনিধি : শীতে অতিথি পাখি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চারণভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বহুমাত্রিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শীত আসলে যেন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে যায়। এসময় অতিথি পাখির আগমনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। আর জলাশয়গুলো হয়ে উঠে অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র।
প্রতি বছরের মতো এবারও রাবি ক্যাম্পাসে আসছে অতিথি পাখি। খালেদা জিয়া হলের পেছনের পুকুর, তাপসী রাবেয়া এবং রহমতুন্নেছা হলের পেছনের চামপঁচা পুকুর, শামসুজ্জোহা হলের পাশের পুকুর ও বধ্যভূমির পাশের পুকুরসহ ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি জলাশয়ে আসর বসিয়েছে অতিথি পাখিরা। ক্যাম্পাসের আকাশজুড়ে পাখিরা উড়ে বেড়াচ্ছে আর জলকেলিতে মেতে উঠছে। পাখিদের কলকাকলি, ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ আর খুনসুটিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
পুরো ক্যাম্পাস যেন এক টুকরো পাখির রাজ্য। কিছু পাখি ডুবসাঁতার খেলছে, কিছু উড়ে যাচ্ছে আকাশে, এ ডাল থেকে ও ডাল ঘুরে আবার নেমে আসছে পুকুরে। কিছু আবার পালকের ভেতর মুখ গুঁজে রোদ পোহাচ্ছে। মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় নামছে কিছু পাখি। সব মিলিয়ে যেন পাখিদের মেলা বসেছে।
প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে হিমালয়ের উত্তরে প্রচণ্ড শীত নামতে শুরু করে। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চিন, নেপাল ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হয়। তুষারপাতের তীব্রতা সইতে না পেরে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে আসে। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে সেসবের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।
দুই ধরনের পাখির আগমন হয় এ ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি থাকে ডাঙায় বা ডালে। আরেক ধরনের পাখি থাকে পানিতে। তবে রাবির জলাশয়গুলোতে আসা বেশির ভাগ পাখিই হাঁস জাতীয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখিই ছোট সরালি। আর বাকিদের মধ্যে রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এসব অতিথি পাখি দেখে উচ্ছ্বসিত হন। বাইরে থেকেও অনেকে আসেন অতিথি পাখি দেখতে। সকালবেলা শীতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকে হাটতে বের হন ক্যাম্পাসে। এসময় পাখিদের কলকাকলি আর জলকেলি মুগ্ধ করে তাদের। কথা হয় এমন একজন শিক্ষার্থীর সাথে। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফুয়াদ পাবলো বলেন, ‘সকাল বেলা ক্যাম্পাসে হাঁটতে বের হলে অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করে। আর শীতকালে অতিথি পাখিদের ডুবসাঁতার দেখার মজাই আলাদা। অতিথি পাখিরা আসাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে গেছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুর আলম বলেন, ‘অতিথি পাখিরা ক্যাম্পাসের জলাশয়গুলোকে মাতিয়ে রেখেছে। পাখিদের কলরবে মেতে আছে পুরো ক্যাম্পাস। অনেকেই অতিথি পাখি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। বাইরে থেকেও অনেকে দেখতে আসছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আমিনুজ্জামান মো. সালেহ্ রেজা বলেন, ‘রাবি ক্যাম্পাস পাখিদের জন্য উপযুক্ত একটি স্থান। এখানে পাখিদের কেউ বিরক্ত করে না। প্রতি বছর শীত আসলেই অতিথি পাখিরা চলে আসে ক্যাম্পাসে। পরিয়ায়ী পাখিরা ক্যম্পাসে আসতে শুরু করে সাধারণত অক্টোবরের দিকে। তারা মার্চ পর্যন্ত থাকে এসব জলাশয়ে। কালো মানিক জোড়, ধলা মানিক জোড়, সরালি পাখিই বেশি আসে রাবি ক্যাম্পাসে। বাইরের দেশের প্রচণ্ড শীত সইতে না পেরে পাখিরা আমাদের দেশে আসে। রাবি ক্যাম্পাসে আসার পেছনে আরো কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও প্রজনন ব্যবস্থা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাখিদের বসবাসের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানাভাবে সহায়তা করেছে। এ বছর প্রথমবারের মত জলময়ুর এর প্রজনন ঘটতে দেখা গেছে। এটা অনেক আনন্দের একটি বিষয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দকুমার সাহা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অতিথি পাখিরা ক্যাম্পাসে আসে। পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও প্রজননের ব্যবস্থা থাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে পাখিরা ক্যম্পাসে আসে। পাখিদের সুরক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা সতর্ক আছে।’

SHARE