শেখ হাসিনাই নৌকার কান্ডারি

124

গণধ্বনি ডেস্ক : উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরিচালনার ভার আবারও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপরই দিলেন দলের কাউন্সিলররা। এনিয়ে টানা নবমবারের মতো সভানেত্রী নির্বাচিত হলেন তিনি। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা এবার নতুন কারো হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেও কাউন্সিলে উপস্থিত নবীন-প্রবীণ নেতারা অনড় অবস্থান নিয়ে নৌকার হাল তার হাতেই অর্পণ করেন। আগামী তিন বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ নিয়ে শেখ হাসিনা নবমবার সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের অধিবেশনে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। পরে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির ৪০টি পদ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের ১৭ সদস্য, ৪ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আট সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে পাঁচটি এবং ১৯ সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ১৪টি পদ। এছাড়া ৫১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের ৪০ জনের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এসব নাম কাউন্সিলরদের কণ্ঠভোটে অনুমোদন করিয়ে নেয়া হয়। এখন পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের ৩৯টি পদ ফাঁকা আছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পাদকীয় ৫, সাংগঠনিক ৩, কোষাধ্যক্ষ, উপদফতর, উপপ্রচার এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের ২৮টি পদ। নতুন কমিটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন নেই কমিটিতে। নেই উল্লেখযোগ্য কোনো চমক। পুরনো নেতায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদায়ী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সবাই নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। তবে আগের কমিটির শূন্য তিন পদে নতুন করে তিনজনের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। তারা হলেন আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির দুই যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক- জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও আবদুর রহমান এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান। এছাড়া আগের কমিটি থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন নয়জন। আর একেবারেই নতুন মুখ এসেছেন দু’জন। প্রেসিডিয়ামে কোনো পরিবর্তন না এলেও গতকাল পর্যন্ত যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে নেই আগের কার্যনির্বাহী সংসদের ১০ প্রভাবশালী নেতার নাম। এর মধ্যে সাতজন মন্ত্রিসভার সদস্য। তারা হলেন- বিদায়ী কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, আইনবিষয়ক সম্পাদক ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এছাড়া বিদায়ী উপদেষ্টা পরিষদের দু’জনের নাম ঘোষণায় আসেনি। তারা হলেন- মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। যদিও উপদেষ্টা পরিষদের ১১টি পদ এখনও খালি আছে। এর আগে শুক্রবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধন করেন সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শনিবার নেতা নির্বাচনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭ হাজার ৭৩৭ জন কাউন্সিলর অংশগ্রহণ করে। সেখানে তাদের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত হয় নতুন কমিটি। শনিবার কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে সাংগঠনিক প্রতিবেদন দাখিল করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অর্থ রিপোর্ট পড়ে শোনান দলের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান। এরপর শুরু হয় তৃণমূল থেকে আসা কাউন্সিলরদের বক্তব্য। বিভাগীয় পর্যায়ের ৭ জন নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে অনেকে রাজাকার, আলবদর ও দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদককে প্রশ্রয় দেয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের দল থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করেন। বেশির ভাগ নেতা দল ও সরকারের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন। তীব্র শীতের কারণে এদিন দলীয় সভাপতির নির্দেশনায় কাউন্সিল অধিবেশনের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে আনা হয়। নতুন কমিটি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা বিকালে হওয়ার কথা থাকলেও তা সেরে ফেলা হয় দুপুরেই। এর আগে গঠনতন্ত্র সংশোধনী, ঘোষণাপত্র পরিমার্জনসহ বেশকিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর সদ্য বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, সংসদীয় ও স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ড বিলুপ্তি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রীতি অনুযায়ী দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করলে মঞ্চে আসেন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন। দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে এ কমিশনের অপর দুই সদস্য হলেন- উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও ড. সাইদুর রহমান। এরপর শুরু হয় আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পালা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু সভাপতি পদে আবারও শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন। তাতে সমর্থন জানান প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। এ সময় মুহুর্মুহু করতালি আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিলনায়তন মুখরিত হয়ে ওঠে। এরপর নির্বাচন কমিশন সভাপতি পদে আরও কোনো নাম আছে কিনা কাউন্সিলরদের কাছে পরপর তিনবার জানতে চান। উপস্থিত কাউন্সিলরা হাত নেড়ে ‘নাই নাই’ বলে চিৎকার করেন। পরে টানা ৯ম বারের মতো সভাপতি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এরপর নির্বাচন কমিশনের সামনে সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। একই কমিটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান তাতে সমর্থন দেন। এই পদেও কাউন্সিলরদের কাছে পরপর তিনবার বিকল্প নামের প্রস্তাব চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। অন্য কোনো নামের প্রস্তাব না আসায় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সাধারণ সম্পাদক পদে কাদেরকেই নির্বাচিত ঘোষণা করেন। কাউন্সিল অধিবেশনে উপস্থিত একাধিক কাউন্সিলরের ভাষ্য- ৩৯ বছর থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এখনও কোনো ‘বিকল্প নেই’। ফলে সভাপতি পদে যে কোনো পরিবর্তন আসছে না, তা অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। আলোচনা ছিল মূলত সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। তবে এ পদেও অধিকাংশ নেতার মতামতেরই প্রতিফলন ঘটেছে। এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা প্রেসিডিয়াম সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিভাগীয় সম্পাদকীয় পদ, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নাম প্রস্তাব করে কাউন্সিলের সম্মতি নেন। নতুন কমিটিতে স্থান পেলেন যারা : সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রেসিডিয়াম সদস্য- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোটেক আবদুল মান্নান খান, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, মো. শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মো. আবদুর রহমান। চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মাহাবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, হাছান মাহমুদ ও বাহাউদ্দিন নাছিম। সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে পাঁচজন- আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন এবং মির্জা আজম। বিভাগীয় সম্পাদক : আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, শিক্ষা ও মানব সম্পাদকবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া। এখানে এখনও ৫টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া কাউন্সিল অধিবেশনে সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। সংসদীয় বোর্ড : ১১ সদস্যের সংসদীয় বোর্ডের ৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন বোর্ডে রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ওবায়দুল কাদের ও রশিদুল আলম। কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বোর্ডে নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও রমেশ চন্দ্র সেনকে নতুন বোর্ডে এখন পর্যন্ত রাখা হয়নি। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড : ১৯ সদস্যের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড থেকে বাদ পড়েছেন অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এই উপদেষ্টা শারীরিকভাবে অসুস্থ। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের ১৭ সদস্য হচ্ছেন- শেখ হাসিনা, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, কাজী জাফর উল্লাহ, মোহাম্মদ নাসিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, রশিদুল আলম, মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জায়গায় কাউকে নেওয়া হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদ : ৫১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদে ৪০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- ডা. এসএ মালেক, আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, এইচটি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ আবু নসর, শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক, অধ্যাপক ডা. রুহুল হক, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, কাজী আকরাম উদ্দীন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক ড. হামিদা বানু, অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুর, অধ্যাপক সুলতানা শফি, এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, গোলাম মওলা নকশাবন্দি, ড. মির্জা এমএ জলিল, ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খান, ড. গওহর রিজভী, মো. রশিদুল আলম, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কাজী সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ মকবুল হোসেন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, মুকুল বোস, সালমান এফ রহমান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আতাউর রহমান, জয়নাল হাজারী। বাকি ১১টি পদ পরে আলোচনা করে পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পদোন্নতি পেলেন যারা : সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন এসএম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু নতুন কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া হয়েছেন দফতর সম্পাদক, দফতর সম্পাদক থেকে প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। নতুন মুখ দু’জন : আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটিতে নতুন মুখ দু’জন। প্রেসিডিয়াম পদে সাবেক নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। শ্রমিক নেতা শাজাহান খান এক সময় জাসদের রাজনীতি করতেন। ১৯৯১ সালের দিকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। গাজীপুরের সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকির বাবা ছিলেন শহীদ ময়েজউদ্দিন। ময়েজউদ্দিন ১৯৮৪ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হন। পদোন্নতি হলো যাদের :সদ্য বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমানকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। কার্যনির্বাহী সদস্য থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু নতুন কমিটিতে আইনবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন। উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া হয়েছেন দপ্তর সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক থেকে প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। কমিটিতে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন, চট্টগ্রামের ৯ :আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন, চট্টগ্রামের নয় জন ও রাজশাহীর তিন জন রয়েছেন। এছাড়া খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুই জন করে এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগের এক জন করে নেতা স্থান পেয়েছেন।

SHARE