শীতে কাঁপছে রাজশাহী

174

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিভাগে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত আর হিমালয়ের হিমেল বাতাসে কাঁপছে রাজশাহী। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষরা নিদারুণ কষ্ট আছে। কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা কমছে না। এই আবহাওয়া আরো দুই দিন থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহওয়া অফিসের তথ্য মতে, এ বছর রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গত বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গতকাল রাজশাহীর তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। সন্ধ্যা ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৪ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার । রাজশাহী আবহওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, রাজশাহীতে গত কয়েকদিন থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এই আবহাওয়া রোববার পর্যন্ত থাকবে। তারপর আবার তাপমাত্রা বাড়বে। তখন এতো শীত অনুভূত হবে না। এদিকে শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। এখনও পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষদের কাছে শীতবস্ত্র দিতে দেখা যায়নি। তবে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস থেকে জানানো হয়েছে তারা ডিসেম্বরের শুরু থেকেই শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, আমরা ডিসেম্বরের শুরু থেকেই জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে দরিদ্র মানুষের মাঝে। ভোর ও সন্ধ্যার পর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যার পর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ সড়ক। গ্রামগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বেশি। এছাড়া হঠাৎ করে শীত বাড়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে নবজাতক এবং বৃদ্ধ মানুষ ঠাণ্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুল হক জানান, হঠাৎই ঠাণ্ডা বেড়েছে। তাই হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি।

SHARE