শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে

118

স্টাফ রিপোর্টার : গত সপ্তাহ আগেও শীতের তেমন প্রকোপ ছিলো না। কিন্তু গত বুধবার থেকেই রাজশাহীতে তাপমাত্রা কমে এখন তিব্র শীত পড়তে শুরু করেছে। সাথে হালকা বাতাস এই শীতকে আরো তীব্র করে তুলেছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এখন সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীত জেঁকে বসছে। শীতে জবুথবু অবস্থা সব বয়সি মানুষের। হঠাৎ করেই তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ছোট-বড় সকলেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রামেক হাসপাতালে।
হাসপাতালের তথ্যমতে, মেডিসিন, শিশু ও চর্ম বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। মেডিসিনের চারটি ইউনিটে নারী-পুরুষসহ হাসপাতালের সকল ইউনিটে গতকাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ২০০ জন। এর মাঝে গতকাল বৃহস্পতিবার সব ওয়ার্ড মিলে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৬ শতাধিক। গতকাল বৃহস্পতিবার ৮৫ জনের বেশি রোগি ভর্তি হয়েছে রামেক হাসপাতালে। যাদের মাঝে ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, হাঁপানি রোগির সংখ্যা অনেক বেশি। শিশু ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে পাঁচ শতাধিক রোগি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগির সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।
রামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ‘ঠাণ্ডা পরিবেশের কারণে অল্পতেই ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হচ্ছে নানান বয়সি মানুষ ও শিশুরা। এ সময় ভাইরাসজনিত রোগে মানুষ খুব সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে বাইরের নানান খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রবীর মোহন জানান,‘শীতের কারণে বড় ছোট সবাইকে একটু সতকর্তা অবলম্বন করে থাকতে হবে। এ সময় সকলের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এ সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বাচ্চাদের মধ্যে হাঁচি কাঁশি জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে- ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। বাইরে বের হলে অবশ্যই গরম কাপড় পরিধান করে বের হতে হবে।
তিনি আরো জানান, হালকা কুসুম গরম পানি খাওয়া ভালো। শীতের কারণে অনেক শাকসবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো এখন বেশি বেশি খেতে হবে। আর কোনোভাবে অসুস্থ হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। কোনো হাতুড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া যাবে না।
রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, ‘শীতের কারণে শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া, সর্দি, কাঁশি শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় সকল অভিভাবকের একটু বাড়তি সচেতনতার সাথে শিশুদের যত্ন নিতে হবে’। রোদ হলেই বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে বের হতে হবে। অনেক ঠাণ্ডা ও বাতাস বইলে বের হওয়া যাবে না। কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এবং চিকিৎসকের পরামর্শে সবসময় চলতে হবে’।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানান, শীতকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ১০, ২৪, ২৬, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০টি রুম হিটার দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে। কর্মরত সকলকে বলা আছে- সকল ওয়ার্ডের জানালা ঠিকঠাক যেন লাগিয়ে দেয়। আর শিশু বিভাগে বিশেষভাবে নানান পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

SHARE