যুদ্ধাপরাধের মামলায় টিপু রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

142

 গণধ্বনি ডেস্ক : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধ মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ার মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতান ওরফে টিপু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর এই মামলার বিচারিক কাজ শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিলো ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. মোখলেসুর রহমান বাদল ও আইনজীবী জাহিদ ইমাম। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

গত বছরের ২৭ মার্চ এ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে একই বছরের ৮ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ আসামির বিরুদ্ধে মামলায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর বোয়ালীয়ায় দশ জনকে হত্যা, দুই জনকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন, ১২ থেকে ১৩টি বাড়ির মালামাল লুট করে আগুন দেয়ার অভিযোগ এসেছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪০টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতে সাতটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউতেও জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিলেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। গত ৩১ অক্টোবর তার আপিল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিলের রায় হাতে পেলে তার রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করবেন। এর আগে আজহারকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দিয়েছিল। আরো বেশকটি মামলা আপিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব আপিল মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

SHARE