জেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আজ, কে আসছেন দলের নেতৃত্বে?

84

স্টাফ রিপোর্টার: বহু প্রত্যাশিত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল আজ। কর্মী ও সংগঠনবান্ধব নতুন নেতৃত্বের আশায় প্রহর গুনছেন জেলা আওয়ামী লীগের হাজারও নেতাকর্মী। রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে সকাল দশটায় ৩৬০ জন কাউন্সিলরের অংশগ্রহণে প্রথমে হবে সম্মেলন। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা করবেন জেলা কমিটির নতুন নেতৃত্বের নাম। জেলা কমিটির সম্মেলনকে ঘিরে মহানগরী, পৌর ও উপজেলার সর্বত্রই এই সম্মেলন উপলক্ষে রাজশাহীতে এখন সাজ সাজ রব। ব্যানার- ফেস্টুনে ভরে গেছে নগরীর বিভিন্ন এলাকা। শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ। আর সম্মেলনের কারণে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। কে আসছেন, কে বাদ পড়ছেন এই হিসাব-নিকাষ কষছেন তারা। পদপ্রত্যাশী নেতাদের পাশাপাশি তাদের সমর্থকদের মাঝেও গতকাল দেখা গেছে উৎকণ্ঠা। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি অনেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জানতে চাইছেন, কী হতে যাচ্ছে সম্মেলনে। নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলন প্রধান অতিথি হবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাবেক এমপি মেরাজ উদ্দীন মোল্লা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের নেতাদের চাওয়া অনুযায়ী এবং বিতর্ক এড়াতে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি ছিলো। তবে ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলেও শোনা যাচ্ছে। আজ কাউন্সিলরদের ভোট গ্রহণ করা হবে, না সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব আসবে, নাকি কেন্দ্রীয় নেতারা ভোট ছাড়াই সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে যাবেন তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। তবে ভোট ছাড়া কাউকে নেতৃত্বে আনা হলে তা শুধু দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কমিটির প্রধান দুই শীর্ষ পদ নিয়েই প্রধানত চলছে আলোচনা, সমীকরণ। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে মহানগর ও জেলার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কেউ বলছেন, জেলার শীর্ষ দুই পদেই পরিবর্তন আসবে, কেউ বলছেন শীর্ষ দুই পদের মধ্যে একটিতে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার কেউ বলছেন নতুন মুখ আসবে কমিটিতে। নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কমিটির বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ Ñএই দুইজনের কেউই এবার কমিটিতে থাকছে না। আবার বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যের ঊদ্ধৃতি করে নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, এবার কমিটিতে শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসবে। তার স্থানে স্থলাভিষিক্ত হবেন আব্দুল ওয়াদুদ দারা। আর সভাপতি থাকবেন ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে কেউ কেউ বলছেন, সভাপতির পদ পরিবর্তন হলেও সাধারণ সম্পাদকের পদ বহাল থাকবে। এইরকম নানা ধরনের সমীকরণের কথা আলোচনা চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব দেয়া হলে আবারও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে চান ওমর ফারুক চৌধুরী। আর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে তাই মেনে নেবেন আসাদ। এছাড়া সভাপতি হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা এবং জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেগম আকতার জাহান। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন ও যুব মহিলালীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহীর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আদিবা আনজুম মিতা। এছাড়া পবা- মোহনপুর আসনের সাংসদ মো. আয়েন উদ্দিন ও বাগমার আসনের সাংসদ এনামুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও কেন্দ্র থেকে মনোনীত করলে তারা দলের দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সকালে সম্মেলন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চের টুকটাক কাজ বাকি। মাঠে তখন মাইক লাগানো হচ্ছিল। সব কাজ তদারকি করছিলেন সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক প্রবীণ নেতা মেরাজ উদ্দিন মোল্লা। সবকিছু ঘুরে দেখছিলেন রাজশাহী-৫ আসনের এমপি ডা. মুনসুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আঞ্জুম মিতা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ দলীয় অন্য নেতারা। এদিকে সন্ধ্যায় সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করেন সম্মেলনের সমন্বয়ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় পুরো আয়োজনস্থল ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আখতার জাহানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদস্য মেরিনা জাহান, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান প্রমুখ। এদিকে নগরীর প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি তোরণও নির্মাণ করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে সম্মেলনস্থলের প্রধান তোরণটি উৎসর্গ করা হয়েছে জাতীয় চার নেতার অন্যতম রাজশাহীর কৃতী সন্তান শহিদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। অন্য তোরণগুলো উৎসর্গ করা হয়েছে দলের প্রয়াত অন্য নেতাদের। সম্মেলনে জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেবেন। তবে কাউন্সিলর থাকবেন ৩৬০ জনের মতো। এবার জেলা আওয়ামী লীগের ২১ জন উপদেষ্টাও কাউন্সিলর হবার সুযোগ পাচ্ছেন। কাউন্সিলররা চাইছেন, এবার ভোটের মাধ্যমেই যেন নেতা নির্বাচন হয়। এদিকে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন সব উপকমিটি। সম্মেলনের সমন্বয়ক রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন সব প্রস্তুতি সরাসরি তদারক করছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র এডিসি গোলাম রুহুল কুদ্দুশ বলেন, ঠিক নাশকতা বা জঙ্গি হামলার মতো কিছু ঘটার আশঙ্কার খবর আমাদের কাছে নেই। উল্লেখ্য, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে চলে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। এর প্রায় এক বছর পর পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী জড়িয়েছেন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। ফলে এবার তিনি এই পদে থাকছেন না বলেই মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

SHARE