রাজশাহীতে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট চলছে

134

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা ও রংপুর বিভাগের মতো রাজশাহী বিভাগেও ১৫ দফা দাবিতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। কর্মবিরতির কারণে রোববার সকাল থেকেই রাজশাহীর কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে কোনো জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়নি। ফলে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের প্রথম দিনেই ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন বিপাকে। তবে যারা কর্মবিরতির খবরে আগাম জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে রেখেছিলেন তারাই কেবল মোটর সাইকেল চালাতে পেরেছেন। গতকাল সকালে সরেজমিনে পেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, সব পেট্রোল পাম্পের সামনে দড়ি টানিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারপরও যেসব গাড়ি আসছে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোটর সাইকেল চালকদের পাম্পগুলোতে ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে নগরীর কুমারপাড়া মোড়ের গুল গফুর পেট্রোল পাম্পে সরকারি দফতরের গাড়িগুলোকে তেল নিতে দেখা গেছে। মেসার্স গুল-গফুর ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রামের কাজে নিয়োজিত সব গাড়িকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এটা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মানে। রাষ্ট্রপতি বিকেলে রাজশাহী থেকে চলে যাবার পর সরকারি দফতরের যানবাহনগুলোকেও তেল প্রদান করা হবে না। সকালে নগরীর শালবাগান এলাকায় থাকা আলম ফিলিং স্টেশনের সেলসম্যান মুরাদ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোর ৬টা থেকে তারা ধর্মঘটে গেছেন। এ কারণে সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশন থেকে আর কাউকে জ্বালানি তেল দেয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। নগরীর উৎসবের মোড়ে অবস্থিত মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, ধর্মঘটের খবর ফলাওভাবে প্রচার হয়নি। তাই আগে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। যে কারণে সকালে পেট্রোল পাম্পে এসেছি পেট্রোল নেয়ার জন্য। কিন্তু পেট্রোল পাম্পে এসে শুনছি তাদের ধর্মঘট চলছে। তাই তেল দিতে পারবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম বলেন, হাদির মোড় থেকে মোটর সাইকেল ঠেলে কষ্ট করে নিয়ে আসলাম পেট্রোল পাম্পে। এখানে এসে শুনি, পেট্রোল পাম্প মালিকরা ধর্মঘট ডেকেছে। তারা পেট্রোল দিবে না। এখন মোটর সাইকেল ঠেলে নিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। হঠাৎ করে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিকরাও পড়ছেন দুর্ভোগে। জ্বালানি তেল না পেয়ে অনেকেই যানবাহন চালাতে পারছেন না। আর এ কারণে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও কমে এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার বলেন, দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। কারণ এভাবে চলতে গেলে জ্বালানির অভাবে বাস বন্ধ করে বসে থাকতে হবে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিমুল হক বলেন, রাজশাহীর জেলার ৪৫ টি পেট্রোল পাম্পেই কর্মবিরতি পালন হয়েছে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রামের জন্য বিকেল পর্যন্ত শহরের পেট্রোল পাম্প থেকে সরকারি দফতরগুলোকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কালকে ( সোমবার) উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে বসার কথা রয়েছে। আশা করছি একটা সমাধান এসে যাবে। এদিকে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অনেককে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল কিনতে দেখা গেছে। সেই সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা লিটারে ২০টাকা করে বাড়িয়ে দিয়ে তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন এবং ট্যাংকলরি ভাড়া বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান রতন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে ১ ডিসেম্বর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিপণন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

SHARE