ইলেকশন না সিলেকশন ? জেলা আ’লীগের সম্মেলন আলোচনায় যারা

385

স্টাফ রিপোর্টার : আগামি ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্মেলন ঘিরে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে ইলেকশন না সিলেকশন এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন প্রার্থীরা। বেশিরভাগ নেতাকর্মীর চাওয়া, তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ করতে ইলেকশনের মাধ্যমে কাউন্সিল হবে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ইলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে তাতে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রকাশ ঘটে। আর যদি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি করে দেয় তাতে তৃণমূলের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটে না।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে, অনেক নেতাকর্মী বলছেন সিলেকশনের মাধ্যমে কাউন্সিল হলে বরং যোগ্য নেতৃত্বই দলের দায়িত্ব পাবেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দলের সব তথ্যই রয়েছে। আর এর মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলাও অটুট থাকে। ইলেকশন হলে প্রার্থীদের মধ্যে অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ভোট কেনাবেচার একটা সুযোগ তৈরি হয়ে যায়। ফলে পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।
জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মেরাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, সম্মেলনের প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ। তবে প্রার্থীরা ইলেকশন না সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে এই বিষয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।
জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ইলেকশন হলে তাতে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এখানকার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সিলেকশন করে তাহলেও তাতে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের আস্থা থাকবে বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি নেতাকর্মীদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে জেলাজুড়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা। আলোচনা হচ্ছে কে হবেন জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি? প্রধানত প্রধান দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়েই জল্পনা-কল্পনা বেশি। ইতোমধ্যে এই পদে বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে তালিকায়। তারা প্রত্যকেই জেলা আওয়ামী লীগকে সামনে এগিয়ে নিতে ও দলের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। স্ব স্ব অবস্থান থেকে তুলে ধরছেন দলের জন্য নিজেদের সংগ্রাম ও প্রত্যাশার প্রতিশ্রুতি।
ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীও সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সভাপতির মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আখতার জাহান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও দুর্গাপুর-পুঠিয়া আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারা।
সাবেক সভাপতি আখতার জাহান বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো ইচ্ছা নাই। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দায়িত্ব নেয়ার নির্দেশনা দেন তাহলে দায়িত্ব নেব। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। তার প্রতি আমাদের অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা আছে।
আসাদুজ্জামান আসাদ নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে দল লেবার পাবে। আর দল যদি কর্মকর্তা চান তাহলে আমাকে নির্বাচিত করবে না।
আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আমি গতবার কাউন্সিলের সময় সাধারণ সম্পাদকের প্রার্থী ছিলাম। আমার সাধারণ সম্পাদক হয়ে যাবারও সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু এমপি ছিলাম বলে আমাকে পদ দেয়া হয়নি। এবছর আমাকে দলের এমপি নমিনেশন দেয়া হয়নি। সেক্ষেত্রে আমি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ চাইতেই পারি। আর তৃণমূলও সেটাই চায়। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই দল করেছি। দলের জন্য কাজ করেছি। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে উপজেলায় দলের হাল ধরেছি।
ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আগামি সম্মেলন সফল করার জন্য যা যা করার সবকিছুই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে করবো। আগের দুই অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত কারণে অংশগ্রহণ করিনি।
আর সভাপতি পদে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কখনোই কোনোকিছু নিজে থেকে চাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বানিয়েছেন, সভাপতি বানিয়েছেন, এমপি করেছেন। তিনি যদি এবারও চান তাহলে দায়িত্ব নেব। আর না চাইলে দায়িত্ব নেব না। আমি নিজে থেকে কিছুই চাই না।
আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় আছেন, পবা- মোহনপুর আসনের সাংসদ ও সাবেক ছাত্রনেতা আয়েন উদ্দিন, বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু, মহিলা আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি মর্জিনা পারভীন, রাজশাহীর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আদিবা আনজুম মিতা ও সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম শরিফ।
জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। সেদিক থেকে সাধারণ সম্পাদকের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি। এখন দল যদি চাই দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে দলের জন্য কাজ করতে চাই।
জেলা মহিলালীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন বলেন, আমি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের রাজনীতি হয়ে মহিলা লীগের দুই দুই বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। নানা সংগঠনের সাথে যুক্ত আছি। দলের প্রয়োজনে সবসময় রাজপথের রাজনীতি করি। আমি মনে করি, সাংগঠনিক দক্ষতায় আমি কারো কাছ থেকে কোনো অংশে কম নয়।
আদিবা আনজুম মিতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। সেদিক থেকে আমি দলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। এছাড়া যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছি। আমি সাধারণ সম্পাদক হলে দলের জন্য পুরো সময় দিতে পারবো।
সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুল ইসলামও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে দলে অনুপ্রবেশকারী তথা হাইব্রিড নেতায় ছেয়ে গেছে। তাদের অনেকেই জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসার জোর তৎপরতা শুরু করেছে। তাই এসব হাইব্রিড নেতারা যাতে নেতৃত্বে না আসতে পারে আর দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা যেন দলের নেতৃত্বে আসতে পারেÑএইজন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।
এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফল করার লক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ¥ীপুর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সম্মেলনের প্রধান সমন্বয়ক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দীন মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদার, সহ-সভাপতি সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আখতার জাহানসহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

SHARE