মামলা জট নিরসনে বিচারকদের আরো যত্নবান হতে হবে : জেলা জজ

175

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম বলেছেন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে। বিচার বিলম্বিত হলে অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়। বিচার প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্ন হয় এর জন্য আইন প্রয়োগকারি সংস্থা, আইনজীবী, ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে আন্তরিক হয়ে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশে বিরাজমান মামলা জট নিরসনে বিচারকদের আরো যত্নবান হতে হবে।
গতকাল শুক্রবার জেলা জজের সম্মেলন কক্ষে ‘বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী জেলা জজশিপ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা জজ আরো বলেন, বিচার নিশ্চিত করতে বিচারক, আইনজীবী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক অপরিহার্য। তাই ‘আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সর্বস্তরের মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ডাক্তার, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন মামলার বিচারিক কার্যক্রম যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এর জন্যই আজকের এই সম্মেলন। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রাজশাহীতে কর্মরত বিচারকরা সজাগ থাকবেন।
সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ ওএইচএম ইলিয়াস হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, ‘মামলার জট বিচার বিভাগের বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মামলা জট নিরসনে বিচারক ও আইনজীবীদের সক্রিয়া ভূমিকা প্রয়োজন।
সম্মেলনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্ভুত সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধান, আদালতের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও জেলা জজশিপের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সবিস্তরে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র সহকারী জজ মো. মনিরুজ্জামান। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর আলী সেখ।
এছাড়াও উন্মুক্ত আলোচনায় মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা. ইমদাদুল হক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তালুকদার, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আলম নিপু, অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল অধিকারী, সিনিয়র সহকারী জজ ও লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা লুনা ফেরদৌস, পিপি ইব্রাহিম হোসেন, জিপি রবিউল হক কাকর, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক জাফর উল্লাহ কাজল, সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, কোর্ট ইন্সপেক্টর আব্দুর রউফসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ। সম্মেলনে বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোসাম্মৎ ইসমত আরা, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার উপস্থিত ছিলেন।

SHARE