রাবিতে সমাবর্তন আজ : উৎসবমুখর ক্যাম্পাস

125

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি : বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীন বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তন আজ। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে। বিকাল ৩ টায় রাষ্ট্রপতি উপস্থিতির পর অনুষ্ঠান শুরু হবে। সমাবর্তন উপলক্ষে গোটা ক্যাম্পাসে সাজ-সজ্জা করা হয়েছে। পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে এসএসএফ, র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে রাষ্ট্রপতিকে বহন করা হেলিকপ্টারটি বিশ্ববিদ্যায়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের মাঠে অবতরণ করবে। সেখান থেকে গাড়িযোগে তিনি সমাবর্তনস্থলে পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পর অনুষ্ঠান শুরু হবে। সমাবর্তনে বক্তৃতা করবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. রঞ্জন চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্যজন মলয় ভৌমিক। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা ও কয়েকজন গ্রাজুয়েটের মাঝে প্রতীকী সনদ বিতরণ ও ক্যাপ পরিয়ে দিবেন রাষ্ট্রপতি। বিকাল পৌণে ৫ টায় অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রস্থান করবেন তিনি। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সঙ্গীতশিল্পী খুরশীদ আলম ও জিনিয়া আফরিন লুইপা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে অনুষ্ঠানটি। এদিন দুপুর সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে ৩৪৩১ জন হাজার গ্র্যাজুয়েট কালো গাউন পড়ে আকাশে উড়াবেন ‘গ্র্যাজুয়েশনের টুপি’। সমাবর্তনে যোগ দিতে ইতোমধ্যে মতিহারের সবুজ চত্বরে পা রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। ফলে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে সাবেক বর্তমানের এক মিলনমেলায়। বন্ধুত্বের টানে সাড়া দিতেই পুরনো ক্লাস রুম, পুরনো হলের বারান্দা, সেই চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রেখেছেন সাবেকরা। চোখে-মুখে মিলনের এক অদ্ভুত আবেশ, হারানোকে ফিরে পাওয়ার উচ্ছ্বাসে বাঁধনহারা তারা। উৎসবমুখর ক্যাম্পাস গতকাল শুক্রবার ঘুরে দেখা যায়, সমাবর্তন উৎসবে রাষ্ট্রপতি ও গ্র্যাজুয়েটদের বরণ করতে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। প্রধান ফটক থেকে সমার্বতন স্থল স্টেডিয়াম পর্যন্ত আলপনা, ব্যানার, ফেস্টুন মাধ্যমে সৌন্দর্য শোভা পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডের দুপাশের রং করা গাছগুলো যেন সৌন্দর্যের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। জোহা চত্বর, প্রশাসন ভবন, শহিদ মিনার, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সাজানো হয়েছে নতুন করে। শোভা পাচ্ছে রং-বেরঙের বাতিতে। সন্ধ্যা হলেই এসব ভবনে জ্বলছে সারি সারি রঙিন বাতি। আর বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় রং করা হয়েছে। ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী ৮ হাজার ৮১৪ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩১ জন গ্রাজুয়েট। এর মধ্যে কলা অনুষদে এক হাজার ৪০২ জন, আইন অনুষদে ১৬১, বিজ্ঞান অনুষদে ৬৮৫ জন, বিজনেজ স্ট্যাডিজ অনুষদে ৭৭৬, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৬২২, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৬১০, কৃষি অনুষদে ১১৫, প্রকৌশল অনুষদে ২৪৬ জন, চিকিৎসা থেকে ৩ হাজার ৫৯৭ জন পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছে। এদিকে সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছেন গ্র্যাজুয়েটরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা দলে বলে বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় করতে করতে পা রেখেছেন প্রিয় ক্যাম্পাসে। উঠেছেন পুরনো সেই হলের রুমে। পরিচিত হচ্ছেন নতুনদের সঙ্গে। শুক্রবার সকাল থেকে ক্যাম্পাস জুড়ে সাবেকদের ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ হয়ত বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। যে যেভাবে পারছেন উপভোগ করছেন বহুদিন বাদে প্রিয় চত্বরে ফেরার প্রতিটি মুহূর্ত। এবার সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জয়শ্রী ভাদুড়ী। সমাবর্তনে অংশগ্রহনের অনুভূতির সম্পর্কে তিরি বলেন, অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে এসে বেশ ভালোই লাগছে। বন্ধু-বান্ধব যারা ছিল তারা আবার ফিরে এসেছে। অর্থাৎ সন্ধ্যা হলে পাখি যেমন নীড়ে ফিরে আসে সেরকম ভাবে আবার ফিরে এসেছে। সকলের সাথে কুশল বিনিময়, ফটো সেশন সব কিছু চলছে। আমার মনে হয় প্রত্যেক বছর সমাবর্তন হওয়া হওয়া উচিত। আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ে এটা কেবল মাত্র ১১তম সমাবর্তন চলছে। এটা যদি প্রত্যেক বছর হয় তাহলে জুনিয়র ও সিনিয়রদের মধ্যে যে সখ্যতা সেটা আরও শক্তিশালী হবে। আমাদের মধ্যে কেবল যারা অনার্স, বিএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে বের হয়ে গেছে তারা সমাবর্তনের সুযোগ পায়নি। প্রশাসনের এদিকে নজর দেয়া উচিত যাতে অনার্স পাশের পর সবাই সুযোগ পায়। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরেক সাবেক শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন পর ক্যাম্পাসে এসে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। আমাদের এভাবে ক্যাম্পাসে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে।

SHARE