রাত পোহালেই রাবিতে সমাবর্তন, প্রস্তুত প্রশাসন

117

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাত পোহালেই একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত । সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সমাবর্তনে যোগ দিতে রাজশাহী আসছেন রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আচার্য মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোরদার করা হয়েছে। এবারের সমাবর্তনে তিন হাজার ৪৩১জন গ্র্যাজুয়েট নিবন্ধন করেছেন। এদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সমাবর্তনের প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ভবন, শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবন, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও জোহা চত্বর আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, একাদশ সমাবর্তন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শনিবার বিশ^বিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটদের সকাল ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হবে। তারা দুপুর ১ টা পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবে। তাদের দুপুরের খাওয়া স্টেডিয়ামের ভিতরেই ব্যবস্থা করা হবে। আমন্ত্রিত অতিথিরা দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবে। সূত্রে জানা যায়, রাবিতে রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার অবতরণের পর তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে গেলে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। পরে দুপুর ৩টায় সমাবর্তন শোভাযাত্রা সহকারে রাষ্ট্রপতি রাবির একাদশ সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানস্থলে যাবেন। সেখানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠের পর রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর রয়েছে ডিগ্রি উপস্থাপন ও দেওয়া পর্ব। রাষ্ট্রপতি পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের সনদপত্র দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. রঞ্জন চক্রবর্তী প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এবারের সমাবর্তনে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জনকারী ৮ হাজার ৮১৪ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩৮ জন গ্রাজুয়েট। এর মধ্যে কলা অনুষদে এক হাজার ৪০২ জন, আইন অনুষদে ১৬১, বিজ্ঞান অনুষদে ৬৮৫ জন, বিজনেজ স্ট্যাডিজ অনুষদে ৭৭৬, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ৬২২, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৬১০, কৃষি অনুষদে ১১৫, প্রকৌশল অনুষদে ২৪৬ জন, চিকিৎসা থেকে ৩ হাজার ৫৯৭ জন পিএইচডি, এমফিল, স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, বিডিএস ও ডিভিএম ডিগ্রি অর্জন করেছে। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া দুইটি প্যান্ডেলও তৈরি হয়ে গেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, সড়কের পাশের দেয়ালজুড়ে শোভাবর্ধনের কাজ চলছে। আর নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দুইটি আবাসিক হলে তল্লাশী চালানো হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে শহীদ ড. শামসুজ্জোহা চত্বর পর্যন্ত রাস্তাসহ ফুটপাতের শোভা পাচ্ছে লাল, নীল, সবুজ বাতি। আর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো মেরামত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, সমাবর্তনে যারা অংশগ্রহণ করছে তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে কার্ড রয়েছে। এবং সেখানে একটি নাম্বার এবং ইউনিক নাম রয়েছে। যেটা প্রদর্শন করে তারা সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করতে পারবে। এছাড়া যাদের ডিউটি পাশ কার্ড থাকবে তারাই সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করতে পারবে। আর প্রত্যেক বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটে গ্র্যাজুয়েটদের সমাবর্তন সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তারা সংগ্রহ করে নিবেন। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, সমাবর্তনকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।সর্বস্তরের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোন সময় আবাসিক হলে চালানো হতে পারে তল্লাশি। এসময়ে ক্যাম্পাসে কোন ভাসমান দোকান থাকবে না। তাছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে ১ ডিসেম্বর (রোববার) পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হতে পারবে না এবং সমাবর্তনের দিন গ্র্যাজুয়েট ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ক্যাম্পাস : প্রায় ৭৫৩ একর বা ৩০৪ হেক্টর এলাকাজুড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষণা ইন্সটিটিউট, ৯টি অনুষদের অধীনে ৫৬টি বিভাগে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ক্যাম্পাসের উত্তর পূর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ছাত্রদের জন্য ১১টি আবাসিক হল। ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৬টি আবাসিক হল যা ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থি। পূর্ব দিকে গবেষকদের জন্য রয়েছে একটি ডরমিটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এদেশের সর্বপ্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।তাছাড়া রয়েছে সাবাস বাংলাদেশ নামে একটি ভাষ্কর্য।

SHARE