মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল দুই ট্রেন : তদন্ত কমিটি গঠন, দুইজন বহিষ্কার

92

বাঘা থেকে আসলাম আলী : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার অল্পের জন্য মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছে যাত্রীবাহী দুটি ট্রেন। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে ট্রেন দুটি। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাঘা উপজেলার আড়ানী রেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে আড়ানী স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ঈশ^রদীগামী সিক্স ডাউন মেইল ট্রেন আড়ানী রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় খুলনা থেকে কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন রাজশাহীতে আসছিল। কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেনটি আড়ানী স্টেশন অতিক্রম করার জন্য ২ নম্বর লাইন ক্লিয়ার করার কথা থাকলেও তা না করে ১ নম্বর লাইন ক্লিয়ার করা হয়। ফলে ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিক্স ডাউন মেইল ট্রেনটির মুখোমুখি হয় কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন। কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেনের চালক রুহুল আমিন সিরাজ দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি দেখতে পেয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার ১৫ গজ দূরে থামিয়ে দেন। ফলে অল্পের জন্য সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় ট্রেন দুইটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। সাধারণত আড়ানী স্টেশন অতিক্রম করে ১১:৪৪ টায়। কিন্তু বিলম্বের কারণে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের মুখোমুখি হয় ১২:২০ টায়। পরে ১২:৫৩ টায় রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। এ দিকে সিক্স ডাউন মেইল ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীর উদ্দেশ্যে ছাড়ে সকাল সাড়ে ১০টায়। আড়ানী স্টেশনে এসে পৌঁছে ১২:৪ টায়। ছাড়ে বেলা ১:৪০ টায়। আড়ানী স্টেশনের পয়েন্টম্যান রওশন আলী বলেন, আমি পয়েন্ট ঠিক করতে যাওয়ার আগেই কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন আড়ানী স্টেশনে ঢুকে পড়ে। তবে চালকের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে ট্রেন থামিয়ে দেন। কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেনের চালক রুহুল আমিন সিরাজ বলেন, আড়ানী স্টেশনে কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেনের স্টোপেজ নেই। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন চলছিল। আড়ানী রেল স্টেশনের পূর্ব দিকের পয়েন্ট পার হওয়ার পর দেখি, যে লাইন দিয়ে ট্রেন যাচ্ছে, সেই লাইনে আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। আমি লাইনে ট্রেনটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সংঘর্ষের আগেই থামিয়ে দিই। পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগযোগ প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদার বলেন, পয়েন্টম্যানের ভুলের কারণে এমনটি ঘটেছে। পয়েন্টম্যান একটি লাইন সেটআপ করতে গিয়ে আরেকটি লাইন সেটআপ করে ফেলে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আর স্টেশন মাস্টার একরামুল হক ও পয়েন্টম্যান রওশন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

SHARE