এবার দুর্ঘটনা থেকে বাঁচলো উত্তরা ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস

72

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই ঘটনা ঘটতে চলেছিল রাজশাহীর আড়ানীতে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে একই লাইনে উঠে যায় দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন। তবে চালকের দক্ষতায় মাত্র ৩০ ফুট দূরত্বে থাকতেই থেমে যায় ট্রেন দুইটি। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান দুই ট্রেনের যাত্রীরা।

জানা যায়, আন্তঃনগর ট্রেন উত্তরা এক্সপ্রেস রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে পার্বতীপুর উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছিল আর খুলনা থেকে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রাজশাহী ঢুকছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আড়ানী রেলস্টেশনের অদূরে উত্তরা এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের ক্রসিং হওয়ার কথা ছিলো। রাজশাহী প্রান্তে আব্দুলপুর অভিমুখী উত্তরা এক্সপ্রেস ক্রসিংয়েন জন্য অপেক্ষা করছিলো। এ সময় খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি একই লাইনের মধ্যে ঢুকে পরে। লাইনের ওপর ট্রেন দেখে ব্রেক করেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার (চালক)। ট্রেনটি মুখোমুখী আসার পর থামাতে সক্ষম হোন তিনি। এ সময় দুই ট্রেনের দূরুত্ব ছিলো মাত্র ৩০ ফুট। এ ঘটনার পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রীরা নেমে আসেন। পরে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। অল্পের জন্য ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দুইটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো ঘটনা থেকে বেঁচে যায় উত্তরা ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস। আর প্রাণে রক্ষা পান এ দুই ট্রেনের প্রায় ১হাজার যাত্রী।

এদিকে, ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী আড়ানী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার একরামুল হক ও পয়েন্টম্যান (পি.ম্যান) রওশন আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টম্যানের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে চলেছিলো। আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে এই দুইটি ট্রেনের ক্রসিংয়ের কথা ছিলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্রসিংয়ের জন্য আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছিল সিক্সডাউন ট্রেন উত্তরা এক্সপ্রেস। এ সময় লাইনটির পয়েন্ট পরিবর্তন করে দেওয়ার দায়িত্ব ছিলো পি.ম্যান রওশন আলীর। কিন্তু তিনি লাইনটি পরিবর্তন করেননি। যে কারণে বিপরিত দিক থেকে রাজশাহী অভিমুখে আসা আন্তঃনগর ট্রেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস একই লাইনে ঢুকে পড়ে। তবে চালকের দক্ষতার কারণে ট্রেনটি উত্তরা এক্সপ্রেসের সামনাসামনি গিয়ে শেষ পর্যন্ত থামাতে সক্ষম হয়। ফলে অল্পের জন্য মুখোমুখী সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পায় উত্তরা ও কপোতাক্ষ। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দুই ট্রেনের যাত্রীরা।

পরে ট্রেন দুইটি স্বাভাবিকভাবেই একে অপরকে অতিক্রম করে এবং নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহীর আড়ানী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বলেও জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় এই পরিবহন কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। যাত্রীবাহী দুই ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হন।

SHARE