‘উত্তরাঞ্চল থেকেই দেশের চাহিদার অর্ধেক রাইস ব্রান তেল উৎপাদন সম্ভব’

86

স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরাঞ্চলের রাইস মিল গুলোসহ সারা দেশে উৎপাদিত প্রায় ৫.৫ কোটি টন ধানের ব্রান থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ৭.৫ লাখ টন ভোজ্য তেল। যা বাংলাদেশের মোট চাহিদার অর্ধেক পূরণ করবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগার রাজশাহী অডিটোরিয়ামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মইনুদ্দিন এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমদানীকৃত ভোজ্য তেলের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫-২০ লাখ টন। এতে খারচ প্রায় ১৫০০০ কোটি টাকা। রাইস ব্রান, সরিষা, তিল, চিনা বাদাম, ভূট্টা ইত্যাদি বাংলাদেশের সকল ভোজ্য তেলের উৎস গুলোকে কাজে লাগিয়ে আমাদের নিজস্ব উদ্ভাবিত টেকনোলজি ব্যবহার করে বাজারজাত করলে ভোজ্য তেলে বাংলাদেশ স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন শুধু নয়। বিদেশে রফতানিও করতে পারবে। এক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ। ‘পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি হোক প্রসারিত, টেকসই উন্নয়নে দেশে হোক উন্নত’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাগত বক্তব্য দেন উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামিলুর রহমান। শিল্পোদ্যোক্তা ও শিল্পে আগ্রহী ব্যক্তিদের সাথে বিজ্ঞানীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমেই কেবল দেশর শিল্পায়ন ও শিল্প অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিও পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে শিল্পায়নে যে সব বাধা, সমস্যা শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে শিল্পায়নে নিরুৎসাহিত করে সেগুলো চিহ্নিত করন ও তা নির্মূলের উপায় উদ্ভাবনের লক্ষ্যে শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে উন্নয়ন হলেই চলবে না সেটি হতে হবে টেকসই। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে খাদ্যে উন্নতি এবং পুষ্টিতে অবনতি। শুধু চাল, গম ইত্যাদি খাদ্যে শষ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন টেকসই উন্নয়ন নয়। এমনিভাবে শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী অধিকার, সুশাসন, সবমিলিয়ে সুষম উন্নয়নের নাম হবে টেকসই উন্নয়ন। প্রাকৃতিক রেজিন লাক্ষার বিভিন্ন প্রোডাক্ট, ভূট্টা থেকে কর্ন স্টার্চ তৈরির পদ্ধতি, সিএমসি তৈরির পদ্ধতি, রেশম শিল্পের বর্জ্য থেকে উদ্ভাবিত বিভিন্ন পদ্ধতি এর সবগুলোই অত্যন্ত সহজ লাগসই প্রযুক্তি, সূলভ কাঁচামাল ও বাংলাদেশের বাজারের চাহিদা উপযোগী স্বল্প পূঁজিতে আমাদের শিক্ষিত বেকার যুবক ও নারী উদ্যোক্তারা এগুলো নিয়ে সহজেই শিল্প গড়ে তুলতে পারেন। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা আরও জানান, অনেক প্রসেস উদ্বোধন করা সত্বেও গবেষণাগারের সাথে উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ সল্পতার কারণে এখনও অনেক প্রসেস ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়াও প্রচারের অভাবে সেবাগ্রহীতার কাছে অজানা রয়েছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগার রাজশাহীর পরিচালক ড. মো. ইব্রাহিম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের সদস্য বিজয় ভূষণ পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. অপূর্ব কুমার রায়, রুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোশাররাফ হোসেন।

SHARE