নগরীতে ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু

144

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে ৪৫ টাকা কেজি দরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে পুলিশ পাহারায় এই পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পেঁয়াজ বিক্রি চলবে। টিসিবি এর উদ্যোগে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলেও এর প্রভাব পড়েনি নগরীর খুচরা বাজারে। বরং খুচরা বাজারে কেজিতে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গতকাল রোববার রাজশাহীর বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে। আর টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকা কেজিতে। এ নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতারা বড় বড় সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছে। টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস জানিয়েছে, নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদ চত্বর, লক্ষ্মীপুর মোড়, আমচত্বর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এবং গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকায় টিসিবির ডিলারের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। প্রতি ট্রাকে একদিনের জন্য এক টন করে (২৫ কেজির ৪০ বস্তা) পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। একজন সর্বোচ্চ এক কেজি করে পেঁয়াজ কিনতে পারছেন। গতকাল দুপুরের পর ৫টি পয়েন্টের মধ্যে নগরীর রেলগেট ও সাহেব বাজারের ট্রাকের পেঁয়াজ শেষ হয়ে যায়। গতকাল সকাল থেকেই সাহেববাজার বড় মসজিদের পাশে ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সারি সারি মানুষ। পুরুষের পাশাপাশি ছিলেন নারীরাও। এর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ছোট ছোট শিশুদেরও। তারাও তাদের পরিবারের জন্য পেয়াঁজ কিনতে এসেছিল।গতকাল প্রতিটি পয়েন্টেই ছিল মানুষের ভিড়। পেঁয়াজ কিনতে লক্ষীপুর মোড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহরমপুর এলাকার হিটলার। তিনি বলেন, পেঁয়াজ হাতে পেয়ে স্বস্তি পেলাম। এতো বেশি দাম ছিলো যে তরকারিতে এই কয়েকদিন খুব সামান্য পেঁয়াজ দিয়েছি। ৪৫ টাকায় এবার পাচ্ছি, এটা এই মুহূর্তের জন্য খুব ভাল হবে। বাড়িতে কল দিয়ে স্ত্রীকে বলতেই সে বলে অন্য কাজ পরে হবে, আগে এই পেঁয়াজ কিনে নিয়ে এসো। তাই সব কাজ বাদ দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের এটা ভাল উদ্যোগ। তবে টিসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়া উচিত। পেঁয়াজ বিক্রির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে টিসিবির লক্ষীপুর পয়েন্টের ঠিকাদার জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিক্রি হবে। এরই মধ্যে ২৫ বস্তা পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি বস্তাতেই ২৫ কেজি করে পেঁয়াজ ছিলো। পেঁয়াজ বিক্রির জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন নগরীর লক্ষীপুর বক্সের এটিএসআই নিসার উদ্দিন। তিনি বলেন, শান্ত পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রতাপ কুমার বলেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নগরীর ৫টি পয়েন্টে প্রতিদিন ৫ হাজার কেজি করে তাদের পেঁয়াজ বিক্রি চলবে। পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুদ আছে। রাজশাহী বিভাগের বাকি ৭টি জেলাতেও ২টি করে ট্রাকে ২ হাজার কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রির পরিকল্পনা আছে বলে জানান টিসিবির এই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, নগরীতে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। শনিবার থেকে বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পেঁয়াজ না পৌঁছার কারণে রোববার থেকে পুলিশি পাহারায় বিক্রি শুরু করে টিসিবি। একজন ভোক্তা প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে কিনতে পারবেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে টিসিবি প্রতিদিন পাঁচ টন সরবরাহ করবে।

SHARE