যুবলীগের কংগ্রেস আজ : ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারই মূল চ্যালেঞ্জ

96

গণধ্বনি ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস আজ। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য, অনুপ্রবেশসহ নানা অপকর্মে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাই নতুন নেতৃত্বের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় ত্রি-বার্ষিক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। শুদ্ধি অভিযানে বড়ো ধাক্কার পর কেমন হবে যুবলীগের নতুন কমিটি—সেই আলোচনা এখন সর্বত্র। ‘ইমেজ’ উদ্ধারের দায়িত্ব পাচ্ছেন কারা, তা নিয়ে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের রয়েছে কৌতূহল। বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনির বড়ো ছেলে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশ এবার সংগঠনের চেয়ারম্যান হতে পারেন। পরশ ১০ বছর ধরে রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে একই বিষয়ে আবারো স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরশের বর্তমান বয়স ৫১ বছর।

যুবলীগকে ঢেলে সাজানোই লক্ষ্য

দলীয় সূত্র জানায়, যুবলীগের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বের সন্ধান আগে থেকেই শুরু করেন খোদ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও সাংগঠনিক পদধারী বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ। বর্তমান নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক ৮০ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। যুবলীগকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ল?ক্ষ্যে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে যোগ্য, সত্, ক্লিন ইমেজ ও রাজনীতিতে দীর্ঘ পথপরিক্রমা রয়েছে এমন নেতাদেরই সংগঠনটির নতুন নেতৃত্বে আনতে চান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে পরশের পাশাপাশি ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকেও কাউকে বড়ো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে ৫৫ বছরের বেশি বয়সের কোনো নেতা এবারে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।

চলতি মাসেই কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয়েছে। তিন সংগঠনেই সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির ভেতর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু যুবলীগের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগের নেতৃত্ব বাছাই করবে কাউন্সিলররা। এখানে অবশ্যই আমাদের অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার মূল্যবান পরামর্শ আমরা নেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির রক্তের উত্তরাধিকার কাউকে যুবলীগের নেতৃত্বে চাইতেই পারে, সেটি যুবলীগের অধিকার আছে।

আমন্ত্রণ পাননি বিতর্কিতরা

এবার যুবলীগের সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেট, অতিথিসহ প্রায় ৩০ হাজার ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন চয়ন ইসলাম। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে যুবলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে একে একে। শুদ্ধি অভিযান শুরুর পরই ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যুবলীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগও পাচ্ছেন না ওমর ফারুক চৌধুরী। এর বাইরে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপুসহ বিতর্কিতদেরও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। গণভবন থেকে ‘সবুজ সংকেত’ না মেলায় তাদের দাওয়াতপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

নেতৃত্বের দৌড়ে যারা

যুবলীগের বর্তমান কমিটির অধিকাংশই নতুন কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, চাঁদা ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি, অনুপ্রবেশসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এবার সম্মেলনে ৩৫১ সদস্যের বর্তমান কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ নেতাই বাদ যাবেন। এক ঝাঁক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ সব শ্রেণি-পেশার যুবকদের হাতে দেওয়া হতে পারে সংগঠনের নেতৃত্ব। এবার চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি,  ফারুক হাসান তুহিন, সহসম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ। এছাড়া শীর্ষ পদে জায়গা পেতে পারেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে—ইসহাক আলী পান্না, বাহাদুর ব্যাপারী, অজয় কর খোকন, লিয়াকত শিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

এবার সম্মেলনে কেন্দ্রের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার শীর্ষ নেতৃত্বের নামও ঘোষণা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন—বর্তমান কমিটির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসভীরুল হক অনু, জাকির হোসেন বাবুল, মো. শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সেলিম, এ এইচ এম কামরুজ্জামান কামরুল প্রমুখ। এবার উত্তরে অনু-বাবুল কমিটি আসছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের শীর্ষ দুই পদের আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, আবু মনি সহিদুল্লাহ হক চৌধুরী (সোহেল) প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর যুবকদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে যুবলীগ গঠন করা হয়। সে সময় আহ্বায়ক করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণিকে, সদস্য সচিব করা হয় নূরে আলম সিদ্দিকীকে। সর্বশেষ ২০১২ সালে ষষ্ঠ কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন হারুনুর রশিদ।

SHARE