লবণ সংকট পুরোটাই গুজব

103

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে লবণ মজুত রয়েছে। অথচ একটি অসাধু চক্র রাজশাহীসহ সারাদেশে গতকাল মঙ্গলবার লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে একটি আতঙ্ক তৈরি করে। কোনো কোনো বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে রীতিমতো লবণ উধাও হয়ে যায়। আতঙ্কিত ভোক্তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে লবণ কিনতে। গুজবে আতঙ্কিত হয়ে রাজশাহীর বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই দুপুরের পর থেকে লবণ কিনতে ভিড় জমায় ক্রেতারা। রাজশাহীর অনেকস্থানে বাজারে লবণ কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনও পড়ে যায়। কোথাও লবণ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে হট্টগোল বেঁধে যায়। অতিরিক্ত ক্রেতার চাপে অনেক দোকানেই লবণের মজুত শেষ হয়ে যায়। তবে দোকানে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় থাকলেও নগরীর সাহেববাজারে লবণ বৃদ্ধির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলাগুলোতে লবণের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় বলে খবর পাওয়া গেছে। সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী গত মৌসুমে লবণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। যা বিগত ৫৮ বছরের লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গেল মৌসুমের উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ দিয়ে আরও অন্তত দুই মাস চলবে। গতকাল বিকেলে নগরীর সাহেববাজারে লবণ কেনার জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। দোকানদার ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দাম বৃদ্ধির গুজবে হুট করে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। দাম বৃদ্ধি পাবে এমন গুজবে ক্রেতাদের মধ্যে কেউ পাঁচ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ ক্রয় করতে দেখা গেছে। তবে বাজারের লবণের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে চিকন দানার লবণ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি এবং মোটা দানার লবণ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত ক্রেতার চাপে অনেক ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী অন্য পণ্য নিলে তবেই লবণ বিক্রি করেছেন। নগরীর সাহেববাজারের ভাগগু মিয়া স্টোরের সত্ত্বাধিকারী খায়রুল হাসান বলেন, দুপুরের পর হঠাৎ করে আধাঘণ্টায় আমার দোকানের ২০ কেজি লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। শুধু লবণ কেনার ক্রেতা। পরে বাধ্য হয়ে বলেছি, অন্য পণ্য না নিলে শুধু লবণ বিক্রি করা যাবে না। তবে চিকন দানার লবণ ৩৫ টাকা দামে ও মোটা দানার লবণ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর আলহাজ্ব আমজাদ স্টোরের সত্ত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, দুপুরের পর থেকে ১০০ কেজি লবণ বিক্রি হয়েছে। কেউ ৫ কেজি, কেউ তিন কেজি, কেউ ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ ক্রয় করেছেন। গণি স্টোরের রাইসুল ইসলাম রবিন বলেন, দুপুরের পর থেকে তিন বস্তায় ৭৫ কেজি লবণ ছিলো সব বিক্রি হয়ে গেছে। বরকত উল্লাহ স্টোরের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১৯৭২ সালের পর এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। এই প্রথম ঘটলো। আধাঘণ্টার মধ্যে দোকানে মজুত লবণের সব স্টক শেষ। রাজশাহী সুগার মিলে কর্মরত আশরাফ সরকার নগরীর আমজাদ স্টোর থেকে ২ কেজি লবণ কিনেছেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে লবণের দাম বেড়ে গেছে এমন তথ্য দিয়ে তাকে ২ কেজি লবণ কিনে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। নগরীর বহরমপুর এলাকার নববধু তৃষা একাই তিন কেজি লবণ কিনেছেন তার নিজের জন্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পিঁয়াজ ছাড়া তরকারি খাচ্ছি কিন্তু লবণ ছাড়া তো তরকারি খাওয়া সম্ভব না। তাই আগেই লবণ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে রাজশাহীবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, লবণের কোনো সংকট নেই। রাজশাহীতে ২০০ মেট্রিক টন লবণ মজুত আছে। কেউ গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি অকারণে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত লবণ ক্রয় না করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, আমরা আড়তদারদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন তাদের কাছে পর্যাপ্ত লবণের মজুত আছে। এক শ্রেণির মানুষ দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এই গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি, কেউ গুজবে কান দিবেন না। সবাই সবার জায়গা থেকে সতর্ক থাকবেন। আমরা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান মেয়র। বিবৃতিতে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। রাজশাহীতেও লবণের কোন সংকট নেই। তথাপি একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে মহানগরবাসীসহ সকলকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কোন ব্যবসায়ী লবণের অতিরিক্ত দাম চাইলে নিকটবর্তী থানা পুলিশে খবর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা : এদিকে গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত লবণ মজুদের অভিযোগে আটজন অসাধু ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বাধীন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত টিম নগরীর বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারাদণ্ড প্রদান ও জরিমানা করেন। আবু আসলাম বলেন, ভাউচার ছাড়া অতিরিক্ত লবণ মজুত করার অভিযোগে মানিক ও আজমল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাদেন কাছে ১০০ থেকে ১৫০ কেজি লবণ কেনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে লবণের কোনো সংকট নেই। বিভিন্ন কোম্পানির কাছে লবণের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমরা এসিআই, ফ্রেস, মোল্লা সল্ট, কনফিডেন্সসহ যতগুলো লবণ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের রাজশাহীর প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বলেছি। তারাও আমাদের নিশ্চিত করেছেন রাজশাহীতে তাদের স্টকে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে। তবে উপজেলাগুলোতে লবণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার দোকানগুলোতে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
এদিকে, রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় দাম বৃদ্ধির খবর নিশ্চিত করেছেন আমাদের প্রতিনিধিরা। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করায় পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বাঘা প্রতিনিধি জানান, পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখি করতে সরকারিভাবে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের বাইরে থেকে আনা হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের বাজার যখন গরম ঠিক সেই মুহূর্তে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে লাইন ধরে লবণ কিনতে দেখা গেছে। তবে খোলা লবণ ১৩ টাকার পরিবর্তে প্রতিকেজি ২০-২৫ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পেঁয়াজের দাম কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে, ঠিক তখনই উপজেলার বাজারে ‘লবণ’ নিয়ে শুরু হয়েছে তেলেসমাতি। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা লবণের দাম বেড়েছে প্রচার করলে মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায় বিভিন্ন দোকানে।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাজারে প্রচুর পরিমাণের লবণ মজুদ রয়েছে। দাম বাড়ার কোন কারণ নেই। গুজব ছড়িয়ে যারা বেশি দামে লবণ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, উপজেলার কোথাও কোন ব্যবসায়ী বেশি দামে লবণ বিক্রি করছেন এমন তথ্য পেলে আইনী ব্যবস্থা নিব। লবণের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে উপজেলার মনিগ্রাম বাজারের লবণ ব্যবসায়ী মকুল হোসেনের ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চারঘাট প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর চারঘাটে হঠাৎ করে লবণের সংকটে গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় চারঘাট, সরদহ, নন্দনগাছি, ডকরা ও কাকরামারিসহ গ্রামগঞ্জের মুদি দোকানগুলোতে লবণ ত্রুয় করার জন্য ভিড় জমাতে থাকে। আর এই সুযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খোলা লবণ ২০ টাকা থেকে ৬০/৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত লবণ ৩৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা বিক্রি করতে শুরু করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিকে চারঘাট বাজারেও কয়েকটি দোকানে লবণ ক্রয় করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে ক্রেতারা। আর এই সংবাদ পেয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক ও থানা পুলিশ চারঘাট বাজারে দ্রুত পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চারঘাট বাজারের শ্রীকৃঞ ভান্ডারে অভিযান চালিয়ে চড়া মূল্যে লবণ বিক্রির দায়ে নিখিল চন্দ্র সাহাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এদিকে সারদা মোক্তারপুর ট্রাফিক মোড় বাজারে অভিযান চালিয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির দায়ে অসাধু ব্যবসায়ী মোক্তারপুর পাকিয়াইনপাড়া গ্রামের মোশারফের ছেলে মুদি দোকান নান্টু ইসলামকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, দেশে লবণের কোন সংকট নেই। একটি মহল নিছক গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার যড়ষন্ত্র করছে। তিনি বলেন সন্ধ্যার দিকে আমি গুজব শুনে আমি নিজেই বাজার পরিদর্শন করি এবং মানুষকে গুজবে কান না দেয়ার জন্য সাথে সাথে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হয়। এছাড়া তিনি আরো বলেন, চড়ামূল্যে কেউ লবণ বিক্রি করলে তদন্ত করে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোহনপুর প্রতিনিধি জানান, মোহনপুরে প্রতি কেজি খোলা লবণের দাম বিক্রি হয় ২০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত লবণের দাম ২৫ টাকার পরিবর্তে ১০০টাকা। খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বাজার মনিটরিংয়ে নামেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহমেদ।
মঙ্গলবার বিকেলে মোহনপুরের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র কেশরহাটে ঘুরে দেখা গেছে, লবণ রেখেই বেশিরভাগ খুচরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ঘুরছেন ব্যবসায়িরা। যারা খুলে রেখেছেন তারা আবার প্রতি কেজি প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি করছেন ১০০ টাকায়। তবুও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। কেশরহাট বাজারের লবণের প্রধান পাইকারি ব্যবসায়ি আবদুল আজিজ স্বাভাবিক দামে লবণ বিক্রি করলেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে না পেরে মালামাল লুটের ভয়ে গোডাউন বন্ধ করে দেন। তবে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও অনেক খুচরা দোকানিরা আরো বেশি দাম আদায় করার চেষ্টা করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন দেখা গেছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ বলেন আমরা বাজার মনিটরিং করেছি। অতি উৎসাহি এবং অতিরিক্ত ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে গিয়ে কিছু দোকানে দাম বেশি নিলেও আমরা তা বন্ধ করেছি। কারণ সরকারিভাবে দাম না বাড়লে দোকানিরা বেশি দাম নেবে কেন। তবে পাইকারি ব্যবসায়িরা ন্যায্যমূল্যে লবণ বিক্রি করছিল। সারা বাজারটিতে এখন পর্যন্ত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহি অফিসার সানওয়ার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয় জনস্বার্থে ম্যাসেজ বার্তায় জানিয়েছেন দেশে কোনো প্রকার লবণের ঘাটতি নেই পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে। বাজার মনিটরিং চলছে কেউ মূল্যের চেয়ে বেশি দাম আদায় করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পুঠিয়া প্রতিনিধি জানান, পুঠিয়া ত্রিমোহনী বাজারসহ পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও হাটে মুদিখানার দোকানে খোলা লবন ২০ থেকে ২৫ টাকা ও প্যাকেট লবন ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এদিকে পুঠিয়া ত্রিমোহনী বাজারের সব কয়টি মুদিখানার দোকানে সন্ধার পর থেকে ১ ঘণ্টাার মধ্যে লবন বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এছাড়াও লবনের দাম বৃদ্ধির খবরে বানেশ্বর হাটের পাইকারী ব্যবসায়ীরা লবন মজুদ করা শুরু করে। এ খবর পেয়ে পুঠিয়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি রুমানা আফরোজ বানেশ্বর হাটে অভিযান পরিচালনা করেন। লবণ মজুদ করার সময় এক ভ্যান লবণসহ পাইকারী ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান ও খুচরা ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম বাবুকে আটক করে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাইকারি ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমানকে ১ বছরের জেল ও খুচরা ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া রাসেল এন্টারপ্রাইজ নামের লবণ ও ভূষি মালের ব্যবসায়ী মকলেসুর রহমানের গোডাউনে সিলগালা করা হয়। অভিযানের পর বানেশ্বর হাটের লবণের বাজার স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমি রুমানা আফরোজ জানান, লবণের দাম বৃদ্ধি এটা একটি গুজবের মতো। দেশে লবণের কোন সংকট নেই। আপনারা বেশি দামে লবন ক্রয় করবেন না। বেশি দামে কেউ লবণ বিক্রি করলে আমাদের খবর দেন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। খোলা হয়েছে কন্টোলরুম : এদিকে লবণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে একটি কনট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কনট্রোল রুমের নম্বর ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন) এবং ০১৭১৫-২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)। গুজবে কান না দিয়ে লবণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে কনট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

SHARE