অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৫

85

স্টাফ রিপোর্টার:রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফরিদউদ্দিন আহম্মেদকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দিবাগত রাতে নগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুর এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চন্দ্রিমা থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতার পাঁচজন অধ্যক্ষের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নাটোর গুরুদাসপুরের চঁচকোড় বাজার এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন সৌরভ (২৪)। তিনি রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বাজার এলাকার শামিমুল ইসলামের ছেলে ও ছাত্রলীগ নেতা সালমান টনি (২২)। নগরীর ভদ্রা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে রায়হানুল ইসলাম হাসিব (২১)। চারঘাটের ইউসুফপুর এলাকার মাহাতাব আলীর ছেলে মুরাদ হোসেন (১৯)। তিনি ইলেকট্রনিকস বিভাগের ছাত্র। পাবনার দাপুনিয়া এলাকার রইচ শেখের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ শান্ত (২২)। তিনি পাওয়ার টেকনোলজি বিভাগের ছাত্র।
নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনার পরে আসামিরা পালিয়েছিল। তাদের রাজশাহীর জেলার বাইরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে হয়েছে। এছাড়া বাকি আসামিদেরও গ্রেফতার করা হবে।
প্রসঙ্গত,মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে গত ২ নভেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

এ নিয়ে রাতে মামলা করেন অধ্যক্ষ। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫৭ জনকে আসামি করে ওই রাতে মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন অধ্যক্ষ।

এদিকে ঘটনা তদন্তে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হিসেবে ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (পিআইডব্লিউ) এসএম ফেরদৌস আলম।

অন্য দুই সদস্য ছিলেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) ড. নুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওমর ফারুক। তারা দুদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুকুরের পানির গভীরতা পরীক্ষা করেন।

তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পায়। অবশেষে গত ৭ নভেস্বর কমিটির প্রধান কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক এসএম ফেরদৌস আলম মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এ ছাড়া ২ নভেম্বর রাতেই ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ।

তিন দিনের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা শেষ হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

SHARE