বাঘায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে মিলল ১৫ মণ পেঁয়াজ

119

বাঘা থেকে আসলাম আলী : রাজশাহী বাঘা উপজেলায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় উপজেলার বাউসা গ্রামের সুভাষ চন্দ্র (৪৫) নামে এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর বাড়ির ছাদ থেকে লুকিয়ে রাখা প্রায় ১৫ মণ পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজার কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড় পান তিনি। ব্যবসায়ী সুভাষ চন্দ্র মুচলেকায় উল্লেখ করেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে তিনি বাড়িতে মজুতকৃত সব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে দেবেন।’ গতকাল রোববার রাতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের বাড়িতে অভিযান চালায় বাঘা থানা পুলিশ। জানা যায়, রাজশাহীর অঞ্চলে যে সমস্ত এলাকায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে তার মধ্যে বাঘা উপজেলা অন্যতম। এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার সবখানেই কমবেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে। এরমধ্যে প্রতিবছর বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যত্র রফতানি হয়। বাঘা হাটের ব্যবসায়ী মানিক মিয়া জানান, যে অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন বেশি হয়, সে অঞ্চলে মানুষ সেই ফসলের মজুদ করে থাকেন। উপজেলার অনেক ব্যক্তি তাদের ঘরে পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছেন। প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করে এসব বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়ার ব্যবস্থা করলে এ অঞ্চলে পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে যাবে। এদিকে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে এখন তা মধ্যবিত্তদের মানুষ কেনার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গতকাল রোববার ২৫০ টাকা প্রতিকেজি খুরচা বিক্রি হতে দেখো গেছে। দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না থাকায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্রেতারা। পেঁয়াজ সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান ক্রেতারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সিন্ডিকেট করে মানুষের পকেট কাটতে না পারে। গত আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকলেও এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরেই চলে গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৪০-২৫০ টাকা প্রতিকেজিতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় উৎপাদিত পেঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যত্র রফতানি হয়। অল্প কিছু দিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে। সেই সময় পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হবে। রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) নুরে আলম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি- উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পেঁয়াজ মজুত করে বাজারে ঘাটতির সৃষ্টি করছেন। প্রশাসন এই ব্যাপারে মাঠে নেমেছে। বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হলেও পেঁয়াজের সিন্ডিকেট ভাঙা হবে।’

SHARE