বগুড়ায় ৬ রুটে বাস বন্ধ, দায় নিচ্ছেনা কেউই

156

বগুড়া প্রতিনিধি : নতুন পরিবহন আইন নিয়ে আতঙ্কে বগুড়ায় ৬টি রুটে অঘোষিত বাস ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে থেমে থেমে যানবাহন বন্ধ আবার চলছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে বাস চলাচল অপেক্ষাকৃত কম দেখা গেছে। মালিক-শ্রমিক সংগঠন বলছে, নতুন আইনের ভয়ে শ্রমিকরা নিজে থেকেই বাস বন্ধ রেখেছে। বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, দূরপাল্লার বাস চলছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগে যাত্রীরা।

বগুড়ায় যেসব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো- বগুড়া থেকে নওগাঁ, বগুড়া-সান্তাহার, বগুড়া-আক্কেলপুর, বগুড়া-আবাদপুকুর, বগুড়া-চাঁপাপুর, বগুড়া- মোলামগাড়ি। অন্যদিকে বগুড়া-জয়পুরহাট ও বগুড়া-গাইবান্ধা রুটে বাস চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে।

হঠাৎ বাস বন্ধ হওয়ায় ওইসব রুটের যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে ও সিএনজি চালিত অটো রিকশায় যাতায়াত করছেন। এই সুযোগে অটো রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জমান জানান, দুপুর ২টার দিকে সদর থানা পুলিশ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে চালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, যেসব চালক বিআরটিএ অফিসে হালনাগাদ করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাদের কোনো হয়রানি করা হবে না। পুলিশের এই আশ্বাসে চালকরা বাস চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ৬টি রুটে বাস চলাচল শুরু হয়নি।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা ও আভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় সাতশ বাস চলাচল করে। তবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব বাসের প্রায় ৯০ শতাংশের ফিটনেস নেই। এমনকি চালকদেরও লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর নতুন সড়ক আইন কার্যকর হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ তা শিথিল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় অভিযান চালানো হবে-এমন শঙ্কা থেকেই চালকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বসে থাকা নওগাঁ-বগুড়া রুটের বাস চালক আব্দুল বারীক জানান, তারা স্বেচ্ছায় মালিকের কাছে চাবি জমা দিয়ে এসেছেন। কারণ নতুন আইনে তাদের পক্ষে বাস চালানো সম্ভব নয়। তার মতে, আইন তৈরির আগে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা ও শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।

দুপচাঁচিয়াগামী যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জানান, বগুড়া থেকে দুপচাঁচিয়ায় বাসের ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু সুযোগ পেয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল জানিয়েছেন, তাদের না জানিয়ে কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শীঘ্রই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের শাহ আক্তারুজ্জামান ডিউক জানান, মূলত চালকরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়েই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা আবারও বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

SHARE