ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

158

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে এখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সরকারের উদ্যোগ, বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। প্রতিদিনই দামের ক্ষেত্রে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে পেঁয়াজ।  একইসাথে বাড়ছে সবজি ও চালের দামও। দাম বাড়ায় পেঁয়াজ ও সবজি এবং চাল কিনতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বহস্পতিবার যে পেঁয়াজের কেজি ছিলো ২০০ টাকা, গতকাল শুক্রবার সেই পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর বার্মার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বাড়ায় রান্নায় আগে যে পরিমাণ পেঁয়াজ ব্যবহার করা হতো এখন তার অর্ধেক পেঁয়াজ দিয়ে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে। পেঁয়াজের এমন দাম বৃদ্ধি আগে কখনোই দেখেন নি ক্রেতারা। শুধু পেঁয়াজের দামই বাড়েনি, পেঁয়াজের সাথে সাথে বেড়েছে সবজি ও চালের দামও। সব সবজি কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ টাকা।
গতকাল শক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজারে গিয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেলো। এমনকি আগে যেখানে পচা পেঁয়াজ ফেলে দিতো বিক্রেতারা সেই পেঁয়াজই গতকাল বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে।
নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়ার আড়তদার জুয়েল জানান, কিছুই করার নেই! বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই! চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ থেকে এখন আর পেঁয়াজের ট্রাক আসছে না। আর রাজশাহীর উপজেলার সব হাটেও পেঁয়াজের ব্যাপক সংকট। কৃষকের ঘরেও নেই পেঁয়াজ। সিংহভাগ পেঁয়াজ আসছে বার্মা থেকে।
আড়তদার রুবেল হোসেন জানান, আমাদের মোকামেও পেঁয়াজ নেই। বাজারে বার্মার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ আট হাজার টাকা মণে বিক্রি হয়েছে। কৃষকরা যেসব পেঁয়াজ জমিতে লাগিয়েছিলো। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তার বেশিরভাগ পচে গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী জানান, গতকালের চেয়ে আজ (শুক্রবার) প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি। বর্তমানে আধা পচা ও ভালো মানের সব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়।
রোকসানা পারভীন জানান, মনে হচ্ছে পেঁয়াজ খাওয়া বাদ দিতে হবে। এত দাম বাড়লে আমাদের মতো মানুষরা কিভাবে পেঁয়াজ কিনবে।
এদিকে গত চার পাঁচদিন থেকে বেড়েছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালের দাম এখন তিন থেকে পাঁচ টাকা বেশি। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে খুচরা চালের ব্যবসায়ীরা পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির কারণকে উল্লেখ করেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বস্তা চাল ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই এর প্রভাব পড়েছে খুচরা চালের বাজারে। সাহেববাজারের সুশীল স্টোরের মালিক জানান, গত সপ্তাহ থেকে খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়তি তিন থেকে পাঁচ টাকা। দাম বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাইকারি বাজার থেকে আমরা বেশি দামে কিনছি তাই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে। শাহ আলম স্টোরের মালিক শাহ্ আলম বলেন, কয়েকদিন থেকে পাইকারিভাবে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে চাল কিনছি। প্রতি বস্তায় চাল থাকে ৫০ থেকে ৮০ কেজি। তাই খুচরা না বাড়িয়ে উপায় নেই।
এদিকে দাম বেড়েছে সকল সবজির। গত কয়েক দিনের চেয়ে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে দশটাকা বেশি দরে বিক্রি করছে বিক্রেতারা।
মাস্টারপাড়া সবজি ব্যবসায়ী মাজদার আলী জানান, বেগুন কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেড়স ৪০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১২০ টাকা, লাউ ৩৫ টাকা ও কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। অপরিবর্তিত রয়েছে মাংস ও মাছের দাম। তবে পাঁচ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে মুরগির দাম। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ২১০ টাকা, বয়লার ১২৫ টাকা, লেয়ার ১৬০ টাকা, লাল ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মশলার বাজারে রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

SHARE