রাজশাহীতে বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কে মার্কিং নেই!

250

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর সড়ক-মহাসড়কে কোনো ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল এমনকি কোনো রোড মার্কিংও নেই। অথচ রাজশাহী সড়ক ভবনের প্রবেশপথেই, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ফটকের সামনে ক্রস মার্কিং ব্যবহার করা হয়েছে। এই মার্কিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো নিষিদ্ধ। অনেকেই বলছেন, এখানে আইন কেবল নিজেদের সুবিধার জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে, যা সড়ক-মহাসড়কের ক্ষেত্রে করা হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহীতে সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে ৪২০ কিলোমিটার। এসব সড়কে আগের মতোই চলছে যানবাহন। বেশির ভাগ সড়কের রোড মার্কিং মিলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও একেবারেই নেই। এ নিয়ে নির্বিকার সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে চলতিপথে নতুন সড়ক পরিবহন আইনের সুফল মিলছে না। এতে চালকদের মধ্যে কেবল নতুন আইনের বিষয়ে ভীতিই বেড়েছে, সড়কে সচেতনতা মোটেই বাড়েনি।

জানা গেছে, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সরকার পক্ষের তোড়জোড় কম থাকলেও রাজশাহীর সড়ক ও মহাসড়কগুলো ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং বিহীন রয়েছে। ফলে আইন মেনে চলতে কেবল দুর্ভোগই বাড়ছে, সুফল মিলছে না।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সার্জেন্ট তোফায়েল আহমেদ বলেন, মহানগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটগুলো দীর্ঘদিন থেকেই সম্পূর্ণ অকার্যকর। তাই চালক ও পথচারীরা বুঝতে পারেন না, কখন কী নিয়ম মানতে হবে? এ কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মহাসড়কে সিগন্যাল ও মার্কিং না থাকায় অনেকক্ষেত্রেই চালকরা তাত্ক্ষণিকভাবে করণীয় ঠিক করতে পারেন না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাজশাহীর পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজল কুমার নন্দী বলেন, মহাসড়কে রোড মার্কিং দেওয়া ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে উঠে গেছে। এছাড়া অনেক চালক জানেন না, কোনো মার্কিং বা সিগন্যালের মানে কী? এটি বড়ো সমস্যা।

তবে সড়ক-মহাসড়কে সিগন্যাল ও মার্কিং বসাতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক এএসএম কামরুল হাসান। তবে এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগে গিয়েও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সার্ভেয়ার আনোয়ারুল আজিম বলেন, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের সময়ই সিগন্যাল ও মার্কিং বসানো হয়। কোথাও না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন,  কোটি টাকা খরচ করে নগরীর সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো কখনোই ব্যবহার হয়নি। ঐ অবস্থায় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া, সড়ক-মহাসড়কে মার্কিং না থাকায় চালকরা বিপাকে পড়ছেন। পার্কিং জোনও নির্দিষ্ট করা নেই। কিন্তু সড়ক ভবনের প্রবেশপথে কর্মকর্তা তা নিজেদের স্বার্থে ঠিক ব্যবহার করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও জানান তিনি।

SHARE